গো-খাদ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে জিলাপি!

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০১৮ আপডেটঃ ৬:৪১ অপরাহ্ন

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতিকারক উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য সামগ্রী। এতে সাধারণ মানুষ পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। কুড়িগ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারের ফুটপাতের দোকানগুলোতে এসব মিষ্টি জাতীয় খাদ্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকার মূল্যের ১ কেজি গুড়ের নালির সাথে চিনি মিশিয়ে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ কেজি গুড়ের জিলাপি তৈরি করে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

গুড়ের নালি ছাড়াও গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে ও রসগোল্লার শিরার রস দিয়েও জিলাপি তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ফুলবাড়ীতে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক উপাদানগুলো দিয়ে জিলাপি তৈরি করা হচ্ছে। এখানে আখের গুড়ের কেজি ১০০ টাকা হওয়ায় জিলাপি কারিগররা অধিক লাভের আশায় গো-খাদ্য নালির সাথে চিনি মিশ্রিত করে গুড়ের জিলাপি তৈরি করছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন জিলাপি ব্যবসায়ী জানান, বাজারে গুড়ের জিলাপির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। পাশাপাশি এখানে খাঁটি গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় অল্প পরিমান গুড়ের সাথে চিনি ও গো-খাদ্য গুড়ের নালি ব্যবহার করে গুড়ের জিলাপি তৈরি করে অল্প খরচে বেশি লাভ হয়।

আরও খবর: যমুনায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন শুরু

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নজুরুল ইসলাম জানান, তিনি পঁচাগুড়ের তৈরি গো-খাদ্যের উপাদান গুড়ের নালি দিয়ে গুড়ের জিলাপি তৈরির বিষয়টি শুনে জিলাপি কারিগরদের সতর্ক করেছেন। কিন্তু তার পরেও তারা এ কাজ অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাদ্দাম হোসেন জানান, গো-খাদ্যের উপাদান গুড়ের নালি বা চিনির সাথে গুড় মিশিয়ে গুড়ের জিলাপি তৈরি হলে এই জিলাপি মানুষের জন্য ক্ষতিকারক হবে।

তা ছাড়া এ জিলাপিতে ইউরিয়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদান থাকার কিডনি ও রক্তে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি এসব জিলাপি না খাওয়ার পরামর্শ দেন।

এমও-১১/১৮-০৫ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক, তথ্যসূত্র: পরিবর্তন ডটকম)