পাবনায় শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের মামলার রায় বুধবার

প্রকাশিতঃ জুলাই ১, ২০১৯ আপডেটঃ ৬:১০ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে বহুল আলোচিত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের মামলার রায় ঘোষণার জন্য বুধবার (৩ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার সকালে পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রুস্তম আলী এ দিন ধার্য করেন।

ফলে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলা বহুল আলোচিত মামলাটি অবশেষে সমাপ্ত হতে চলছে।

আদালতে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পাবনার পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা ও অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনাইন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম গেদা ও অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার। পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শামসুল হুদা।

পরে পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা জানান, আদালত ৩ জুলাই বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল রোববার সাফাই সাক্ষীর দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী না দিয়ে সময় প্রার্থনা করে আবেদন জানান। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রুস্তম আলী সময়ের আবেদন বাতিল করে আজ সোমবার সকাল ১০টায় এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরুর দিন ধার্য করেন। সেই সঙ্গে হাজির হওয়া ৩০ আসামির জামিন বাতিল করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনায় দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলাটি পুনঃতদন্ত করে পুলিশ। তদন্ত শেষে নতুনভাবে বিএনপি নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের করার বছরে এ মামলায় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টও দাখিল করে। কিন্তু আদালত সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান। পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

প্রথম চার্জশিটের সাত আসামির বাইরেও এ মামলায় যাদের নতুনভাবে যুক্ত করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শামসুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কে এম আক্তারুজ্জামান আক্তার, পাকশীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাহাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, যুবদল নেতা আজিজুর রহমান শাহীন, সেলিম আহমেদ, পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, শহীদুল ইসলাম অটল, আব্দুল জব্বার প্রমুখ।

আসামিদের মধ্যে গত ২৫ বছরে ওসিয়া, আলী আজগর, খোকন, তুহিন ও আলমগীর মৃত্যুবরণ করেন।

হাজতে পাঠানো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম আক্তারুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম, আজমল হোসেন ডাবলু, মাহাবুবুর রহমান পলাশ, ইসলাম হোসেন জুয়েল, নুরুল ইসলাম আক্কেল, যুবদল নেতা আজিজুর রহমান শাহীন, সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন জনি, সেলিম আহমেদ, শহিদুল ইসলাম অটল, আব্দুল জব্বার, শাহ আলম, বরকত হোসেন, এনামুল কবীর, হাফিজুর রহমান মুকুল, মুক্তার হোসেন, লিটন, রিপন, সিমুয়া প্রমুখ।

এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ মামলার প্রধান আসামি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মকলেছুর রহমান বাবলু, হুমায়ুন কবীর দুলালসহ আরও কয়েকজন আদালতে হাজির না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

বিএ-০৩/০১-০৭ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)