রাস্তায় দুধ ঢেলে খামারিদের প্রতিবাদ

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৯, ২০১৯ আপডেটঃ ৯:১৫ অপরাহ্ন

দেশের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার খামারিদের মধ্যে হা হা-কার অবস্থা বিরাজ করছে। ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত তরল দুধ উৎপাদন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনায় খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাবনার লক্ষাধিক গো-খামারি।

সোমবার সকাল থেকে কোথাও দুধ বিক্রি করতে না পেরে হতাশায় ভাঙ্গুড়া বাজারে প্রায় ৫শ’ লিটার দুধ রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ করেছেন তারা।

বিক্ষুব্ধ খামারিরা জানান, বৃহত্তর পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া,সাঁথিয়া, সুজানগর, শাহজাদপুর,উল্লাপাড়াসহ আশেপাশের উপজেলার ১৫ হাজার খামার থেকে প্রতিদিন আড়াই লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। যা রাষ্ট্রায়ত্ত মিল্কভিটাসহ চারটি কোম্পানিতে সরবরাহ করা হতো। হাইকোর্টের নির্দেশনায় এসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তে দুধ সংগ্রহ বন্ধ আছে। এতে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি করেও মিলছে না ক্রেতা।

বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা এসব খামারিরা পড়েছেন চরম দুঃশ্চিন্তায়। ক্ষুদ্র খামারিদের উৎপাদিত দুধ বিক্রিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র ও দুগ্ধ খামারি গোলাম হাসনায়েন রাসেল সমকালকে বলেন, ভাঙ্গুড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত মিল্কভিটা ছাড়াও প্রাণ, আকিজ ও ব্র্যাক ডেইরি অর্ধশতাধিক সংগ্রহকেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ করে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনার পর কোনো কোম্পানিই দুধ নিচ্ছে না। এই অবস্থা কয়েকদিন চললেই এ অঞ্চলের দুগ্ধ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের গোখামারী আলী আক্কাস হারুন জানান, ব্যাঙ্ক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি খামার করেছেন। গত দুইমাস ধরে ক্রমাগত লোকসানে দুটি গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে প্রায় ৩০ লিটার দুধ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিয়েও বিক্রি করতে পারেননি। ক্ষোভে দুপুরে ভাঙ্গুড়া বাজারে সব দুধ রাস্তায় ঢেলে দিয়েছেন।

মিল্কভিটার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আলী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার থেকে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের সব কেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো খামারির দুধ কেনা হবে না।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, খামারিদের আকস্মিক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সরকার তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সোমবার সকালে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্র্যাক, মিল্ক ভিটা, প্রাণ ও আকিজসহ দুগ্ধ ক্রয় কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার প্রতিবাদে দুগ্ধ সমবায় সমিতির ম্যানেজাররা ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বিএ-১১/২৭-০৭ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)