ধর্ষকের সঙ্গে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বিয়ে দেয়া সেই ওসিকে শোকজ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ আপডেটঃ ১০:১৩ অপরাহ্ন

থানায় বসে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সাথে ধর্ষণকাণ্ডের হোতার বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক।

এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।সোমবার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম সোমবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফিরোজ আহমেদকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। বাকিরা হলেন কোর্ট ইন্সপেক্টর ও ডিআই-১।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে।

তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে। দুই দিন পর (৩১ আগস্ট) তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ রাসেলকে প্রথমে আটক করে। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে খবর চাউর হয়।

এ বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতেই এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এস আই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

দৌলত বলেন, ‘পরে জানতে পেরেছি রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, ‘রাসেলকে পুলিশ আটকের পর থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওসির নির্দেশে কাজী ডেকে থানার মধ্যেই আমাদের বিয়ে দিয়েছেন।’

আর অভিযুক্ত ধর্ষক রাসেল বলেন, ‘রিমান্ডে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুলিশ জোর করে আমাকে বিয়ে দিয়েছে। আমি নির্দোষ। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল হক সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বলেন, ‘প্রথম দিকে মেয়েটির কোনও অভিযোগ ছিল না। পরে পরিবারের
সম্মতিতে রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে থানায় কোনও বিয়ে হয়েছে কিনা এ তথ্য আমার কাছে নেই।’

এদিকে অভিযোগ না থাকার কথা বলা হলেও সোমবার দুপুরে ওই নারী রাসেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি।

বিএ-১৭/০৮-০৯ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)