আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নির্মান হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিলিকন সিটি

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ৭:২৯ অপরাহ্ন

ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ না করা, নির্মান কাজে নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রুল জারি, এই সবের মধ্যে দিয়েই রাজশাহীতে এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাইকেট পার্ক প্রকল্পের কাজ। মহানগরীর বুলনপুর জিয়ানগর এলাকার পদ্মাপাড়ে ৩১ দশমিক ৬৩ একর জায়গা জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে এই “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিলিকন সিটি”। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই। নির্মাণ শেষে এখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে নির্মানাধিন প্রকল্প এলাকার মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ৪ দশমিক ১১ একর জমি এখনও অধিগ্রহণ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ব্যাপার। তাদের যে এলাকা চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে, তারা ওই এলাকায় কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়।

রাজশাহীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ধরনের অবদান রাখবে নির্মাণাধীন “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সিলিকন সিটি”। তাই এখন থেকেই স্বপ্ন দেখছেন তারুণ্য। এ সিলিকন সিটির মাধ্যমে খুলে যেতে পারে বড় ধরনের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে বিশাল কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে খুলে যাবে প্রযুক্তিনির্ভর তারুণ্যের স্বপ্নের দুয়ার। আর এই আইটি পার্কই হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের লাইফলাইন। ইতোমধ্যে পার্কটিতে রাস্তা, নীচু জায়গায় মাটি ভরাট, ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সিটিতে তৈরি করা হচ্ছে দশতলার এমটিবি ভবন। থাকছে ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ইনকিউবেশন সুবিধা। আরো থাকবে ৬২ হাজার বর্গফুট আয়তনের পাঁচতলার আইটি ইনকিউবেটর কাম ট্রেনিং সেন্টার। নদীর পানি কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব এ পার্ক তৈরি কাজ চলছে। পার্কের একটি বিশাল অংশ জুড়ে থাকবে আইটি ভিলেজ। যেখানে থাকবে কম্পিউটার সফটওয়্যার, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, কমিউনিকেশন সফটওয়্যার, কমিউনিকেশন হার্ডওয়্যার, আইটিভিত্তিক সেবা, ডিজাইন অ্যান্ড কনসালটেন্সি, বায়োইনফরমেটিকস, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং প্রোডাক্টস, ডিজাইন অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস, নিউ অ্যান্ড অ্যাডভ্যান্সড ম্যাটেরিয়ালস, অটোমোবাইল অ্যান্ড মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়াও হাইটেক পার্কে কৃষি জৈব প্রযুক্তি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যসব প্রযুক্তির সুবিধাও থাকবে।

সূত্রটি আরও জানায়, সিলিকন সিটি নির্মাণে ভূমি উন্নয়নের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান করছে কাজটি। পুকুরসহ উঁচু-নিচু পুরো এলাকাটি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। সিলিকন সিটির ভেতরে পাঁচতলা একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণও এগিয়েছে অনেক দূর।

এদিকে জমি অধিগ্রহণ না করে আইটি পার্কের নির্মান কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জমির মালিক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম। গত সোমবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ না করায় গত ২১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রল জারি করেছিল হাইকোর্ট। বিচারক মামুনুর রহমান ও বিচারক আশিষ রঞ্জন দাস এ রুল জারি করেছিলেন। আদালতের রায় অমান্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে এই তিন কর্মকর্তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বুলনপুরে ৪ দশমিক ১১ একর সম্পত্তি তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। কিন্তু ওই সম্পত্তি অধিগ্রহণ বা অধিগ্রহণ বাবদ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তর-২ থেকে সেখানে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণকাজ শুরু করে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন। উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে আপিল বিভাগ ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে আদালতে নির্দেশনা অমান্য করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। জমির গাছপালা কর্তন, পুকুর ভরাট এমনকি জমির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ করে সেখানে অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চলমান রাখায় গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। আদালতের রায় অমান্য করায় কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রাজশাহীর তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা, দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিটি) ও রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্ত সেই বিষয়টিও অজ্ঞাত।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক ফজলুল হক হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাজ বন্ধ রাখার কোনো অবকাশ নেই। বরং হাইকোর্টের রায় নিয়ে আসলেই কেবল কাজ বন্ধ করা হবে। তাছাড়ও জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ব্যাপার। তাদের যে এলাকা ডিসি অফিস থেকে চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে, তারা ওই এলাকায় কাজ করছেন। এখানে ব্যক্তিগত জমি থাকার কথা নয়। খুব সম্ভবত জাল দলিল করে তারা এই জমিটি নিজেদের দাবি করছে। প্রয়োজন হলে সরকার ওই জমিও অধিগ্রহণ করবে। এটা তাদের বিষয় নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করেন তিনি।

এসএইচ-১৬/১২/০৯ (নিজস্ব প্রতিবেদক)