রাজশাহীতে মাদক সেবন করিয়ে সেই ইজিবাইক চালককে হত্যা

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ১১, ২০১৯ আপডেটঃ ৪:০৮ অপরাহ্ন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ইজিবাইক চালক জসিম উদ্দিন ওরফে জয়কে (২০) হত্যার আগে মাদক সেবন করিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। কৌশলে রাজশাহী থেকে পূর্বপরিচিত জয়কে নিয়ে গিয়েছিলো ঘাতক দল। আর এর উদ্দেশ্য ছিলো ইজিবাইক ছিনতাই।

নিহত জসিম উদ্দিন রাজশাহীর শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম মাস্টারপাড়া মহল্লার আরফান আলীর ছেলে। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা তার মরদেহ ফেলে যায় গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার ক্লাবের মোড় এলাকার একটি পুকুর পাড়ের জঙ্গলে। গত ৭ জানুয়ারী এই ঘটনা ঘটলেও মরদেহ উদ্ধার হয় এর তিন দিন পর ১০ জানুয়ারি।

দ্রুতই হত্যাকণ্ডে জড়িত তিন যুবককে গ্রেফতার করে শাহমখদুম থানা পুলিশ। এরা হলেন- বড়বনগ্রাম শেখপাড়ার আবুল কালামের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৩), গোদাগাড়ী মাটিকাটা এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে সুমন আলী (২৬) ও একই এলাকার মরিফুল ইসলামের ছেলে রাজিব আলী (২৫)। এদের মধ্যে জসিম উদ্দিন ও সুমন আলী নগরীর একটি রেস্তোরাঁর কর্মী ছিলেন।

শুক্রবার সকালে এদের শাহমখদুম থানা পুলিশ সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে। এসময় নগর পুলিশের উপকমিশনার (শাহমখদুম) হেমায়েতুল ইসলাম জানান, হত্যকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধার হয়েছে। নিছক ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড। পুলিশের ধারণা, করা হচ্ছে-চক্রটি বহুদিন ধরেই ইজিবাইক ছিনতাইয়ে জড়িত। প্রাথমিক তদন্তে এর প্রমাণও মিলেছে।

ছিনতাই হওয়া ফাতেমা পরিবহন নামে সবুজ রংঙের ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়েছে জসিমের এক নিকটাত্মীয়ের বাড়ি নাটোর থেকে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাঁটওয়ালা ৯ ইঞ্চি ধারালো ছুরি, নিহতের একজোড়া কালো প্লাস্টিকের জুতা, রক্তমাখা পাতা ও মাটি এবং অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন ও সুমন আলীর রক্তমাখা সোয়েটার ও প্যান্ট।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি রাজশাহী দুপুরের দিকে নগরীর নওদাপাড়া থেকে গোদাগাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হন অভিযুক্ত জসিম ও সুমন। মাদক নিয়ে অপর অভিযুক্ত রাজিব তাদের সাথে যোগ দেন। তারা গোদাগাড়ীর জলাহার ক্লাবের মোড় এলাকার একটি পুকুর পাড়ে বসে মাদক সেবন করেন। মাদক সেবন করান ইজিবাইক চালক জয়কেও। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে রাজিব সেখান থেকে চলে যান।

এসময় জসিম ও সুমন জয়কে নিয়ে যান পাশের জঙ্গলে। এক পর্যায়ে সুমন জয়ের দুই পা চেপে ধরেন। আর জসিম তার গলায় ছুরি চালান। ঘটনাক্রমে অপর অভিযুক্ত রাজিব সেখানে ফিরে এসে এই দৃশ্য দেখে ফেলেন। পরে তিন জন মিলে মরদেহ জঙ্গলে ফেলে যে যারমত চলে যান।

সুমন ও নিজের গায়ের রক্তমাখা সোয়েটার ও প্যান্ট নিয়ে বাড়ি ফেরেন জসিম। সাথে নিয়ে আসেন ইজিবাইকও। ওই দিনই জসিম ইজিবাইক নিয়ে গিয়ে নাটোরে বোনের বাড়িতে রেখে আসেন।

নগরীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাম (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, গত ৭ জানুয়ারী ইজিবাইকসহ জসিম উদ্দিন জয় নিখোঁজের পরদিন থানায় সাধারণ ডায়ের করে তার পরিবার। ঘটনার তদন্তে নেমে ওই ইজিবাইকের এক যাত্রীর সন্ধান পায় পুলিশ।

ওই যাত্রীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত রাজিব আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় অপর দুজনকে। উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকসহ অন্যান্য আলামত।

তিনি আরো বলেন, নিহতের বাবা আরফান আলীর দায়ের করা মামলায় তিন আসামীকে শুক্রবার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার আদালতে স্বিকারোক্তিমুলক জবাববন্দি দেবেন তারা। এর ঘটনায় আর কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি’না সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ-জানান ওসি।

বিএ-০৪/১১-০১ (নিজস্ব প্রতিবেদক)