রাজশাহীতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সংঘর্ষ, আহত ৭

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৪, ২০১৯ আপডেটঃ ৭:৫৭ অপরাহ্ন

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ নগরীর নাইস কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত: সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণের সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকায় নির্ধারিত সময় পরেও গ্রহণ করা চলে। এখন চলছে ভোট গণনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালে কথা কাটাকাটির জেরে দুই সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। সংঘর্ষ এবং লাঠিপেটায় ওই সাতজন আহত হন।

রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্স সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর সাতজনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে তারা চিকিসা নিচ্ছেন।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১১ জন।

এর মধ্যে সভাপতি পদের চার প্রার্থী হলেন, কামাল হোসেন রবি, জাহাঙ্গীর আলম, রজব আলী ও রফিকুল ইসলাম রফিক। আর সাধারণ সম্পাদক পদের তিন প্রার্থী হলেন, মমিনুল ইসলাম মমিন, মাহাতাব হোসেন চৌধুরী ও সাইরুল ইসলাম।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট রবিউল হক কাকর।

অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার হলেন অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার ও সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন।

এই নির্বাচনের মোট ভোটার রয়েছেন তিন হাজার ৪২০ জন। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ হলেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ২০১৭ সালের ২৪ মে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

ভোট গণনাকালে ওই দিনও সংঘর্ষ ও গোলাড়ুলির ঘটনা ঘটে। ছিনতাই হয় ব্যালট বক্স। মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনারদেরও। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এরপর ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছিল মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। গত ২২ জুন রাজশাহী এসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

তিনি নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। গঠন করা হয় নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটিও। তিন মাসের মাথায় সেই কমিটি নির্বাচন দিলো।

বিএ-১৫/০৪-১০ (নিজস্ব প্রতিবেদক)