থানা থেকে বেরিয়ে লিজার আত্মহননে পুলিশের গাফিলতি নেই

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৬, ২০১৯ আপডেটঃ ৬:০৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীর শাহমখদুম থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কলেজছাত্রী লিজা রহমান (১৮)। স্বামীর বিরুদ্ধে থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় এই কাণ্ড ঘটান রাজশাহী মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী।

তবে পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রীর আত্মহননে শাহমখদুম থানা পুলিশের গাফিলতি নেই। এই ঘটনা তদন্ত করে নগর পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে।

রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনা তদন্ত করে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) সালমা বেগমের নেতৃত্বে কমিটি পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে থানা পুলিশের গাফিলতি পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজছাত্রী লিজা রহমান তার স্বামীর দ্বারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অভিযোগ করতে এসেছিল শাহমখদুম থানায়। কিন্তু এটি কোন ফৌজদারি অপরাধ না হওয়ায় মামলা রেকর্ড করেননি ওসি।

পরে লিজাকে দুই নারী কনস্টেবলের সঙ্গে থানা চত্বরে অবস্থিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।

কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে এসেই লিজা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনাটি শাহমখদুম থানার ওসি হিসেবে কোন রেকর্ড না রাখায় তাকে কৈফিয়ৎ তলব করা হতে পারে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে রাজশাহীর শাহমখদুম থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দেন লিজা রহমান। ৬৩ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান লিজা।

এর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পর ওই রাজশাহী মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী জানিয়েছিলেন, স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে থানার সামনেই আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি।

গত জানুয়ারীতে প্রেমে করে পরিবারের অমতে বিয়ের করেন তারা। বিয়ের পর থেকেই নগরীর গাঙপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছিলেন এই তরুণ যুগল।

এ ঘটনায় ২ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা আলম মিয়া বাদি হয়ে শাহমখদুম থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় পরদিন রাতে লিজা রহমানের স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মামলার অপর আসামী তার শ্বশুর মাহবুবুল খোকন ও শ্বাশুড়ি নাজনিন বেগম পলাতক।

ওই ছাত্রীর আত্মহননে থানা পুলিশের গাফিলতি এবং পারিবারিক কলহ খতিয়ে দেখতে মানবাধিকার কমিশনের চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। সরেজমিন তদন্ত করে গত শনিবার ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বিএ-০১/০৬-১০ (নিজস্ব প্রতিবেদক)