চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার সাত যুবক রিমান্ডে

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:৫৬ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেত্রীর ছেলেসহ সাত যুবকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন মহিউদ্দিন তামিম, এস এম জাওয়াদ জাফর, মোন্তাছিরুল মেহের, আজফার হোসেন, মো. দাউদ নবী, চৌধুরী মোহাম্মদ রিদওয়ান ও ইমরান। সবার বয়স ২১ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।

জঙ্গি সন্দেহে চট্টগ্রাম নগরের আনন্দবাগ এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে এই সাত যুবককে গ্রেফতার করে র‍্যাব। র‍্যাবের ভাষ্যমতে, উগ্র মতবাদ ছড়ায়—এমন বই বিপুল পরিমাণ পাওয়া গেছে মহিউদ্দিন ও আজফারের বাসায়। এ ছাড়া মহিউদ্দিনের বাসা থেকে একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। সাতজনের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) পাস করেছেন। অন্য দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

আরও খবর: সুনামগঞ্জে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ১১ ডাকাত ধরা

গ্রেফতার হওয়া মহিউদ্দিনের মা তামান্না সুলতানা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক। চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত বছর ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পাস করেন মহিউদ্দিন। আরেক আসামি আজফার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

ইমরান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দাউদ একটি সিমেন্ট কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী। জাফর একটি পোশাক কারখানার সহকারী কর্মকর্তা ও মোন্তাছিরুল রেডক্রসের মাঠকর্মী হিসেবে কক্সবাজারে কাজ করেন। আর রিদওয়ান একসময় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন।

র‍্যাব বলছে, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) মতাদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করছিলেন আসামিরা। হোয়াটসঅ্যাপে ‘দীন ফোর্স এক্সট্রিম’ এবং ‘ইখোয়ান’ নামে দুটি গ্রুপে সক্রিয় থেকে তাঁরা আইএসকে অনুসরণের চেষ্টা চালাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে এ দেশীয় সমমনা জঙ্গিদের একত্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার কাজে জড়িত রয়েছেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, সাত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে আসামিদের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁরা জঙ্গি নন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল কবির বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে থানায় আনা হবে।

বিএ-১১/১৬-০৪ (আঞ্চলিক ডেস্ক, তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)