স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ফেলে পালাল স্বামী

প্রকাশিতঃ মে ১৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:০১ অপরাহ্ন

যৌতুকের টাকা না পেয়ে শরীয়তপুরের দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর নিহতের স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

বুধবার সকালে সদর উপজেলা আংগারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাষানচর গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত খাদিজা বেগম (২০) সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামের গোলাম মাওলা কাজীর মেয়ে।

আরও খবর: কেসিসির ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুর

নিহতের ছোট ভাই শাহিন কাজী জানান, দেড় বছর আগে খাদিজা বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার দক্ষিণ ভাষানচর গ্রামের আ. সামাদ মৃধার ছেলে এবাদুল মৃধার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাতাকে সোনা গহনা ও নগদ টাকা দেয়া হয়। বিয়ের কিছু দিন পর স্বামী এবাদুল পুনরায় টাকা জন্য স্ত্রী খাদিজাকে চাপ প্রয়োগ করে। বাবা-মা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা দেন। একপর্যায়ে আরও টাকার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।

স্থাসীয়রা জানান, মঙ্গলবার এবাদুল ও খাদিজার মধ্যে যৌতুকের টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। এর পর রাতের খাবার খেয়ে সবাই শুয়ে পড়ে। পর দিন বুধবার সকালে পাশের বাড়ির এক লোকের মাধ্যমে গৃহবধূ খাদিজার অবস্থা খারাপ বলে খাদিজার বাবা ও মায়ের কাছে খবর পাঠানো হয়।

স্বজনরা এসে দেখেন ঘরের ভেতর চৌকির ওপরে মশারি পেঁচানো খাদিজার নিথর দেহ পড়ে আছে। স্বামীর বাড়ির কোনো লোকজন নেই। তারা খাদিজাকে হত্যা করার পর ঘরের মালামাল নিয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। এর পর পালং মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

নিহতের মা আমেনা বেগম বলেন, বিয়ের সময় আমার মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সোনার গহনা, টাকাপয়সা দিয়েছি। এর পর বারবার আমার মেয়েকে টাকার জন্য চাপ দেয়। বারবারই টাকা নেয়। এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা দিয়েছি। এর পর ও টাকার জন্য আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে খাদিজাকে হত্যা করা হয়েছে। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত খাদিজার গলার নিচে, মুখমণ্ডলে আঘাতের দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।

বিএ-০৩/১৬-০৫ (আঞ্চলিক ডেস্ক)