সরকারি খালে বাঁধ, কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার শ শ পরিবার

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০১৮ আপডেটঃ ৬:২০ অপরাহ্ন

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শতাধিক সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে ঘের করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ কারণে ছোট ছোট খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে বংশ বিস্তার হচ্ছে না দেশীয় নানা জাতের মাছের। কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন শতো শতো পরিবার।

ব্যাঘাত ঘটছে রবিশস্যসহ ধান চাষেও। উপজেলার বহরবুনিয়া ও জিউধরা ইউপি স্থানীয়দের দেয়া বাঁধে কমপক্ষে ২৫টি শাখা খালে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ও বহিরাগতরা এই এলাকায় শতশত বিঘা জমিতে চিংড়ি মাছের ঘের করেন। অথচ তাদের অনেকেরই এক ছটাক জমি নেই এসব ঘের এলাকায়। ঘের মালিকরা তাদের প্রয়োজনে পানি ওঠা নামা করান।

আরও খবর: এ কেমন শক্রতা!

খালেও কেউ জাল নিয়ে মাছ ধরতে পারে না। জমির মালিকদের থাকে না কোনো কর্তৃত্ব। জমি চাষে ট্রাক্টর ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। ফসল বাঁচাতে সারও দিতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক বহরবুনিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ খান।

জিউধরা ইউপির উত্তর ডেউয়াতলা খালে দেয়া হয়েছে ৫টি বাঁধ। বহরবুনিয়া ইউপি শনিরজোড় থেকে ফুলহাতা ভারানী খালে ৮টি বাঁধ দেয়া হয়েছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। এছাড়াও সিরাজ মাস্টারের বাজার এলাকায় মিয়ার খালটির মুখেই বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে ৬ বছর যাবৎ।

২৮৯নং মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জানের খালের মোহনায় কালভার্টের নিচে বাঁধ দিয়ে খালেই ঘের করছে প্রভাবশালীরা। এ ছাড়াও আনন্দখালী খাল, লাইনের খাল, বহরবুনিয়া-বারইখালী সীমান্ত খালে অসংখ্য বাঁধ দিয়ে ব্যাপক জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করা হয়েছে।

নিশানবাড়িয়ার আমলকিতলা খালটি আলীর বাজারে বাঁধ দেয়ায় ফাল্গুন-চৈত্র মাসে মাঠে পানি ওঠে না। পুকুরগুলোও শুকিয়ে যায়। খাবার পানিরও সংকট দেখা দেয়। আষাঢ়, শ্রাবণ মাসে হাল চাষ ও বীজ রোপন ব্যাহত হয়। শতাধিক পরিবার পানিবন্দি থাকেন।

এ সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর হুসাইন বলেন, ইতোমধ্যে ২টি বাঁধ কাটা হয়েছে। আরও কিছু অভিযোগ পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ বাঁধ কেটে দেয়া হবে।

বিএ-১২/১৮-০৫ (আঞ্চলিক ডেস্ক, তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ)