পুলিশ হেফাজতে ধর্ষিতা কিশোরী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট

প্রকাশিতঃ জুলাই ২২, ২০১৮ আপডেটঃ ১০:২৪ অপরাহ্ন

ময়মনসিংহের নান্দাইল মডেল থানার ভেতরে তিন দিন ধরে পুলিশ হেফাজতে থাকা ধর্ষিতা এক কিশোরী অরক্ষিত একটি কক্ষে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিয়াসহ অন্য কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধার করে নান্দাইল স্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রোববার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানার ভেতর কিশোরীর এমন ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, ওই কিশোরী নান্দাইলের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মোবাইলে ফোনে তার প্রেমের সম্পর্ক হয় স্থানীয় মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আল মামুনের (২০) সঙ্গে। মামুন বিয়ের কথা বলে বৃহস্পতিবার ওই কিশোরীর বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে।

এক পর্যায়ে মামুন চলে যেতে চাইলে কিশোরী তাকে বিয়ের কথা বললে সে রাজি হচ্ছিল না। পরে কিশোরীর চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে মামুনকে ধরে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ কিশোরীসহ অভিযুক্ত মামুনকে থানায় এনে কিশোরীর মাকে বাদী করে মামলা নেয়।

আরও খবর: অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ

পরদিন অভিযুক্ত ধর্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে জেলা হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ধর্ষিতা কিশোরী ও তার মা থানার ভেতরেই একটি কক্ষে অবস্থান করতে থাকে। এ অবস্থায় শনিবার সকালে পুলিশ ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যায়। কিন্তু ধর্ষিতা সেই পরীক্ষা করাতে রাজি না হওয়ায় তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, থানায় থাকা অবস্থায় গ্রামের সালিশকারীরা থানায় এসে কয়েক দফায় দেনদরবার করে ঘটনাটি সমঝোতার চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ওই কিশোরীকে ময়মনসিংহে পাঠালে সেখানেও সালিশকারীর কয়েকজনের উপস্থিতিতে মামলার বাদী কিশোরীর মাকে দুই কাঠা জমি লিখে দেয়ার প্রস্তাবসহ বিয়ে করার কথা বলে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে দেয়নি।

এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় পর ফের কিশোরীকে তার মাসহ থানায় এনে একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানেই সন্ধ্যায় দিকে বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হয়।

শনিবার রাতে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার পর ছাত্রটি সুস্থ হলে রোববার সকালে ছাত্রীকে ময়মনসিংহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি প্রদানের পুলিশ প্রহরায় পাঠানো হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নূরুল হুদা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলার শাখার নেতৃবৃন্দ নান্দাইল থানার ভেতরে ধর্ষিতা কিশোরী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

বিএ-২১/২২-০৭ (আঞ্চলিক ডেস্ক)