ভোলায় গণধর্ষণের মামলায় রিমান্ডে ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩, ২০১৯ আপডেটঃ ৬:৩৯ অপরাহ্ন

ভোলার মনপুরায় দুর্গম চরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় উপজেলার সাকুচিয়ার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলামের (৩০) বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. নুরু মিয়া এ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার ভোর রাতে মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রোববার বিকেলে তিনি জানান, গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় ছাত্র লীগ নেতা নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করি। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

তিনি আরও জানান, ওই মামলায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৬ অক্টোবর) এক গৃহবধূ আড়াই বছরের সন্তানকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটে এসে দেখেন লঞ্চ ছেড়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে তিনি ওই রুটে নিয়মিত যাত্রী পারাপারকারী একটি স্পিডবোটে ওঠেন। এ সময় বোটে আরও দুই যাত্রী ছিলেন। পথে জনতার খালপাড় এলাকা থেকে আরও দুই যাত্রী ওঠেন। কিছুক্ষণ চলার পর ওই চার পুরুষ যাত্রী স্পিডবোটটি চরপিয়াল এলাকায় জোরপূর্বক থামিয়ে ওই গৃহবধূকে চরে নামিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি স্পিডবোটের মালিক সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুলকে জানালে সে অপর একটি স্পিডবোটে চড়ে সেখানে এসে চার ধর্ষককে মারধর করে এবং তাদের কাছে থাকা ৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর সে নিজেই ওই গৃহবধুকে আবার চরের ভিতরে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি ভিডিও করে। এরপর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শাসায়। বললে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

ঘটনাটি চরের ‘বাতাইন্নারা’ (মহিষের রাখাল) দেখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান। খবর পেয়ে তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে চরপিয়াল থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মনপুরায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই রাতেই মনপুরা থানায় ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম (৩০), বেলাল পাটোয়ারী (৩৫), মো. রাসেদ পালোয়ান (২৫), শাহীন খান (২২), কিরন (২৬) ও রিয়াজকে (৩০) আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন ওই গৃহবধূ।

এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোররাতে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে মনপুরা থানার পুলিশ।

বিএ-১৩/০৩-১১ (আঞ্চলিক ডেস্ক)