সালিশের টাকা ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১১, ২০১৯ আপডেটঃ ৪:৫৬ অপরাহ্ন

সালিশে স্কুলছাত্রীর সাথে কলেজ ছাত্রের বাল্যবিয়ের মীমাংসায় মেয়ে পক্ষ থেকে আদায় করা টাকার ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই ব্যক্তি হলেন বেলকুচির ধুকুরিয়াবেড়ার লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) ।

খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে মরদেহ মর্গে নেয়া হয়েছে।

এর আহগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ধুকুরিয়াবেড়া বাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন রাজ্জাককে মারধর করেন।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে বেলকুচি থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানা গেছে, বেলকুচির ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নেরে সাতলাঠি আকন্দ পাড়ার ওমর আলী মাস্টারের অনার্স পড়ুয়া ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের প্রতিবেশী অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ক’দিন আগে দুইবার মেয়েটি বিয়ের আশায় ওই ছেলেটির বাড়ি গিয়ে উঠে।

স্থানীয়রা এ নিয়ে কয়েক দফা মীমাংসা বৈঠকে বসলেও ছেলে পক্ষ হাজির না হওয়ায় এবং মেয়েটি অপ্রাপ্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এর সুষ্ঠু সমাধান হয়নি।

এদিকে, বেলকুচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম হোসেন ও ওবায়দুল হক কয়েকদিন আগে এলাকায় গিয়ে ছেলেটিকে সামাজিক দরবারে হাজির করার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত তারা সেটি করতে পরেননি।

এরইমধ্যে দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা, ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী খোরশেদ আলম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহাব আলী, খায়রুল বারিসহ এলাকার বেশ কয়েকজন মুরুব্বী ধুকুরিয়াবেড়া গার্লস হাইস্কুলে বিষয়টির মীমাংসায় বসেন।

ছেলে পক্ষ ওই বৈঠকে হাজির না হলেও দু’জনের আগামীতে বিয়ে হবে মর্মে তারা অবৈধভাবে একটি লিখিত দেন । এ সময় তারা মেয়ে পক্ষের কাছ থেকে বেশ কিছু আর্থিক সুবিধাও হাতিয়ে নেন।

ওইসব টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যক্ষ মাসুদ রানার কক্ষে হাফিজুল, হানিফ, ফরিদুল, শাহ আলম, আইয়ুব আলী ও কাশেমসহ বেশ ক’জন রাজ্জাককে পিটিয়ে গুরতর আহত করেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নে্ওয়ার পথে মারা যান তিনি বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।

ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হাজী খোরশেদ আলম বলেন, ‘মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই এ মুহূর্তে তার বিয়ে দে্ওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। পুলিশও ছেলেপক্ষকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঘটনার জেরে রাজ্জাককে মারধর করা হয়েছে।

দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানার দাবি, ‘আমরা বাধ্য হয়েই লিখিত নিয়েছি। মেয়ে বা ছেলের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে আমার অফিসের সামনে ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন বাইরে ছিলাম। রাজ্জাককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১১টার সময় সে মারা যায়।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খুনের ঘটনাটি পূর্বের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এটি বাল্য বিয়ে বা যৌন হয়রানির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিনা, সে বিষয়েও থানায় মেয়েটির পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। তবে রাজ্জাক খুনের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ওসি জানান।

বিএ-০৪/১১-১০ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)