হাতবদল হওয়া ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে!

প্রকাশিতঃ জুন ১৩, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

ইয়াবা পাচার ঠেকাতে নাফ নদীতে কোস্টগার্ড ও বিজিবির নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট কি না, সে প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত এই নদীতে প্রায় চার হাজার মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার চলাচল করে। এর মধ্যে কিছু নৌকা ও ট্রলারে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসে। মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পরও নাফ নদীতে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত সমন্বিত কোনো অভিযান চালায়নি।

অন্যদিকে স্থলভাগেও মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ কার্যক্রম নেই। ফলে নদীতে হাতবদল হওয়া ইয়াবা টেকনাফ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। বিভিন্ন সংস্থা যে যার মতো করে নদীতে অভিযান চালানোয় কার্যকর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্বীকার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা।

নাফ নদীর এক পাড়ে বাংলাদেশের টেকনাফ, অন্য পাড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহর। এই নদীর ৫৮ কিলোমিটার অংশে দুই দেশের জলসীমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার টেকনাফে পড়েছে।

ইয়াবাসহ মাদক পাচার, চোরাচালান এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে টহলের ব্যবস্থা রয়েছে কোস্টগার্ড ও বিজিবির। তবে ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জলসীমানার কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে জনবল দরকার, তা টেকনাফের কোনো সংস্থারই নেই। ফলে জলসীমার বেশির ভাগ অংশই অরক্ষিত থাকে।

আরও খবর : ভারত থেকে কঙ্কাল পাচার হচ্ছে বাংলাদেশে!(ভিডিও)

কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের কমান্ডার লে. ফয়জুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, নাফ নদীতে দুই ঘণ্টা পরপর কোস্টগার্ডের বেশ কয়েকটি টহল দল অভিযানে যায়। প্রতিটি টহল দলে ৫-৬ জন সদস্য থাকেন। জনবল রয়েছে ২৭ জন।

অন্যদিকে নাফ নদীর ৫৪ কিলোমিটার এলাকাসহ টেকনাফের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিজিবির ৫৬টি দল নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এ ছাড়া আরও ১৩টি দল নাফ নদীতে বিশেষ টহল দেয়।

জলসীমা পেরিয়ে টেকনাফের স্থলভাগে ইয়াবা ঢোকার পর তা প্রতিরোধের দায়িত্ব প্রধানত পুলিশের। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, থানার জনবলসংখ্যা ৭৫। নাফ নদী ও সাগরে অভিযান চালানোর মতো কোনো নৌযান পুলিশের নেই। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইয়াবাসহ লোকজন আটক করছে।

কক্সবাজার সদর থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। এই সড়কের ডান পাশে সমুদ্র ও বাঁ পাশে পাহাড়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নাফ নদীতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো দরকার। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার পরপর দুদিন সমুদ্রের তীরঘেঁষা এই সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খুব বেশি উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

প্রথম আলোর তথ্য মতে, মেরিন ড্রাইভে ৮০ কিলোমিটারের রাস্তায় পুলিশের দুটি ও বিজিবির চারটি চৌকি রয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র রেজুখাল এলাকায় বিজিবির চৌকিটি স্থায়ী। বাকি সব কটি চৌকি অস্থায়ী। সন্ধ্যা নামার পর গোটা মেরিন ড্রাইভ সড়ক অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এ সড়কে তখন মানুষের চলাচল কমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নাফ নদী ও সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলে সাগরপথ হয়ে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইয়াবা আসে। বিশাল সড়কের পাশে কোনো সৈকতে ইয়াবা বহনকারী নৌকা নোঙর করলে তা তল্লাশি করার মতো কেউ থাকে না। সাগর থেকে ইয়াবা এনে মেরিন ড্রাইভ পার হয়ে পাশের পাহাড়ে ঢুকে পড়লে ইয়াবা পাচারকারীরা সহজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আড়ালে চলে যেতে পারে।

এসএইচ-০৯/১৩/০৬ (অনলাইন ডেস্ক)