সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবাররা ক্ষতিপূরণ পায় না!

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:০৪ অপরাহ্ন

আদালত থেকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নজীর বলতে গেলে নেই। ১৯৮৯ সালে দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক জামাল হোসেন মন্টুর পরিবারের ক্ষতিপূরণের মামলা থেকে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি বলছেন আইনজীবীরা।

তাই দুর্ঘটনায় হাত হারিয়ে নিহত রাজি বা বিমানবন্দরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিয়েও রয়েছে সংশয়। এক্ষেত্রে সড়ক পরিবহ আইনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে নির্ধারিত ট্রাস্টের সুস্পষ্ট নীতিমালা ও আইনের বাধ্যবাধকতার পরামর্শ আইনজীবীদের।

সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তি হলেও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নজীর তেমন নেই। দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১৯৮৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ২৭ বছরের বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিলো ২০১৬ সালে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পেতে এখনো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে সাংবাদিক মন্টুর পরিবারকে।

দুর্ঘটনায় নিহত চলচিত্রকার তারেক মাসুদের মৃত্যুর ৪ বছরের মাথায় হাইকোর্ট ৪ কোট ৬১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিলো। মামলাটি এখনো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে আপিল বিভাগে।

অন্যদিকে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো রাজিবের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের কাজ করছে হাইকোর্টের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি।

এমন অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মামলায় ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা দেওয়া আদেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হলেও সে অর্থ পাবে কি?

নিহত রাজিবের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস বলেছেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ যেহেতু এই মামলাগুলো ডিল করছে তারাও আইনের মধ্য দিয়ে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারছেন না।

তদন্ত করে কোনটি দুর্ঘটনা হবে কি হবে না এই সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি কমিশনের অধীনের আনা সম্ভব ছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে প্রস্তাবিত আইনে এটি করা হয়নি।

তারেক মাসুদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেছেন, বাসের মালিক যারা বিবাদী ছিলেন তারা আপিল বিভাগের কাছে অনুমোদন চেয়েছিলেন আপিল বিভাগের কাছে। তার শুনানি হবে আগামী আক্টোবর মাসে।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণে নেই নির্ধারণ আইন বা নীতিমালা। প্রশ্নবিদ্ধ সড়ক দুর্ঘটনার আইনে ট্রাস্ট গঠনের ধারা যুক্ত হলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে রয়েছে অস্পষ্ট।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতিমর্য় বড়ুয়া বলেছেন, নতুন আইনটি যদি পাস হয় তাহলে তহবিলটা কোথা থেকে আসবে। সেটা নিয়ে কোনো কিছুই বলা নেই প্রস্তাবিত আইনে। যার ফলে তহবিল গঠনের নামেচাঁদাবাজি হবে।

প্রস্তাবিত আইনে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা ও আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলে আগের মতোই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই পড়তে হবে বলেও মত আইনজীবীদের।

এসএইচ-০৫/১০/০৮ (অনলাইন ডেস্ক, তথ্য সূত্র : যমুনা টেলিভিশন)