তফসিলের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেবার দাবি উত্থাপন

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৭, ২০১৮ আপডেটঃ ৩:০৭ অপরাহ্ন

নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে সংলাপ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। প্রায় ৩ ঘণ্টার সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে বাম জোটের নেতারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সেসব বিষয় নিয়ে আজ দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন জোটের দুই নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও জোনায়েদ সাকি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা আমাদের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছি। তিনিও তার যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এখন কথা হলো- আমাদের কথা বলা হয়ে গেছে। বল এখন প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে।’

তিনি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও বহুদিন ধরে কঠোর সংগ্রাম করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না, সেটা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেন। সেটার উপরই নির্ভর করবে, আমরা নির্বাচন বয়কট করব না অংশগ্রহণ করব। আমরা দুটোর জন্যই ষোলআনা প্রস্তুত রয়েছি।’

সংলাপে সন্তুষ্টি অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীকাল ৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে তিনি সংলাপের বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরবেন। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষায় আছি।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমরা ৮টি দাবি ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ৭টি দাবি তুলে ধরেছি। এছাড়া, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থায়ী ও কার্যকরের জন্য আরও ৫ দফা প্রস্তাব করেছি।’

‘তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, প্রশাসন পুনর্বিন্যাস এসবই ছিল আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়’, জানান তিনি।

সাকি বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতারাও তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী আগামী ৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, আমাদের এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে হওয়া সংলাপের প্রেক্ষিতে তাদের অবস্থান একবারেই ব্যাখ্যা করবেন। তবে সংলাপে ক্ষমতাসীনদের কথাবার্তা থেকে যা মনে হলো- এ পর্যন্ত ঘোষিত অবস্থানেই অনড় আছেন তারা।’

আমরা বলেছি, আমরা তো একটা আন্দোলনের মধ্যে আছি, সৎভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। সেই ধারা অনুযায়ীই আমরা সংলাপে গিয়েছি। সংলাপ প্রক্রিয়াকে আমরা এভাবে দেখছি যে, আলোচনার মধ্য দিয়েই একটা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জনমত তৈরি করে এমন চাপ প্রয়োগ করব, যাতে সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করে। আমরা মনে করি যে, সংলাপ প্রক্রিয়াটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। একটা সমাধানে পৌঁছেই তারপর নির্বাচনে যেতে হবে, ভাষ্য সাকির।

সরকারি দল থেকে বলা হচ্ছে বুধবারের পর থেকে আর সংলাপের সুযোগ নেই। এর জবাবে সাকি বলেন, ‘আমরা মনে করি যে, সংলাপ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়া উচিত এবং সকলের জন্য একটি আস্থাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কোনোকিছুই শেষ করাটা ঠিক হবে না। তারপরও সরকারি দলের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য তো আছেই। আমাদের অবস্থানটা আমরা বলেছি। এবার তারা যদি মনে করে যে তারা উদ্ভূত পরিস্থিতির কোনো সমাধান না দিয়েই সংলাপ শেষ করে দেবেন, তাহলে তো আর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না।’

সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা মনে করি, আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করবে জনগণ। গতকালও আমরা পদযাত্রা করেছি এবং এই ধরনের কর্মসূচি চলতে থাকবে। আজ তফসিল বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া এবং সন্ধ্যায় বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করার কথাও জানান সাকি।

এসএইচ-০৫/০৭/১১ (আরাফাত সেতু, দ্য ডেইলি স্টার)