আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একযুগ পার মুশফিকের

প্রকাশিতঃ মে ২৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:০২ অপরাহ্ন

২৬ মে, ২০০৫। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় একটি দিন। এদিনই প্রথমবারের মতো লর্ডসের মাঠে টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। ১৩ বছর আগের সেই ম্যাচের ফলটি যদিও বাংলাদেশের জন্য ভুলে যাওয়ারই ছিল। মাত্র আড়াই দিনেই টেস্ট হেরে যায় টাইগাররা। কিন্তু সেদিন একটি ‘রত্ন’ উপহার পেয়েছিল বাংলাদেশ।

১৩ বছর আগে লর্ডসের ওই ম্যাচে ১৭ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হয় মুশফিকুর রহীমের। যা তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শনিবার তাই আন্তর্জাতিকে পা রাখার ১৩ বছর পূর্তি হলো মুশফিকের। সময়ের সাথে সাথে এই ১৩ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠেছেন মুশফিক। নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে দেশকে ভাসিয়েছেন নানা অর্জনে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩ বছর। এটা শুধুই একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত মাইলফলকই হওয়ার কথা। কিন্তু মুশফিকুর রহীম বলেই সেটি হচ্ছে না। পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেটকেই এই উপলক্ষ একটু আলাদা করে ভালোলাগায় ভাসাচ্ছে। স্মৃতিকাতরও করছে। ১৩ বছর আগের ওই ম্যাচে যেমন অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন রাজীবেরও। কিন্তু তার আবির্ভাবের কথা কেই বা এদিন মনে করছে?

আরও খবর : বিশ্বকাপের আগেই রোমেরো দলে ফিরবেন!

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে এখন মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। এই শক্ত ভিত্তি পেতে লড়াকু সৈনিকদের একজন হয়ে থাকবেন মুশফিক। এখন পর্যন্ত ৬০টি টেস্ট খেলেছেন। সঙ্গে ১৮৪টি ওয়ানডে ও ৬৮টি টি-টুয়েন্টি। তিন ফরম্যাট মিলে তার রান ৯৩৬৬।

এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিন ফরম্যাটেই। গেল বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর পর্যন্ত ছিলেন টেস্ট অধিনায়ক। মুশফিকের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দেশকে টেস্টে হারিয়েছে। বিদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। সবমিলে ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিক। মোট ৭টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ তার নেতৃত্বে। ওয়ানডেতে ৩৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১১টিতে জিতিয়েছেন। টি-টুয়েন্টিতে তার নেতৃত্ব দেওয়া ২৩ ম্যাচের ৮টিতে জিতেছে বাংলাদেশ।

ক্যারিয়ারে নানা কীর্তিতে ভাস্বর হয়েছেন মুশফিক। ২০১৩ সালে দেশের পক্ষে টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি এসেছিল ছোটখাটো গড়নের এই ব্যাটারের ব্যাট থেকেই। টেস্ট ও ওয়ানডেতে মোট ৫টি করে সেঞ্চুরি মুশফিকের। ফিফটির সংখ্যা টেস্টে ১৯টি, ওয়ানডেতে ২৮টি ও টি-টুয়েন্টিতে ৪টি।

মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুশফিক। রুটিন প্র্যাকটিসের বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে নিয়ে অনেক বেশি কাজ করতে দেখা যায় মুশফিককে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৩ বছরে দাঁড়িয়ে এখন মুশফিক দেশের নির্ভরতার প্রতিক। এই নির্ভরতা আরো বেশ ক’বছর তার কাছে চায় দেশ। তাতে যেমন সমৃদ্ধ হবেন মুশফিক নিজে, তেমনি সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

এসএইচ-২৭/২৬/০৫ (স্পোর্টস ডেস্ক)