রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স

প্রকাশিতঃ জুলাই ১১, ২০১৮ আপডেটঃ ২:০১ পূর্বাহ্ন

রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে একে অন্যের মুখোমুখি হয় ফ্রান্স-বেলজিয়াম। সেন্ট পিটার্সবার্গে মঙ্গলবারের প্রথম সেমিফাইনাল ছিল মূলত দুই ইউরোপীয় শক্তির লড়াই। সেই লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স।

এই ম্যাচের লড়াই ছিল মূলত বেলজিয়াম ফুটবলের ‘‌সোনালি প্রজন্মে’‌র সঙ্গে ফ্রান্সের ফুটবল ‘‌নবজাগরণে’‌র। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই গোল পাওয়ার লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে জমে যায় দুই দলের লড়াই। ফ্রান্স-বেলজিয়াম উভয় দলই গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও প্রথমার্ধে শেষ পর্যন্ত গোল থেকে বঞ্চিত থাকতে হয় দুই দলকেই।

আরও খবর : গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রথমার্ধে দুই দল গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ফ্রান্সের পক্ষে সেই গোলটি করেন স্যামুয়েল উমিত্তি। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোল করেন তিনি। এরপর গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে হেজার্ড-লুকাকুরা। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করে বেলজিয়াম। কিন্তু এদিন ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিলনা। যার ফলে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলের ব্যবধানের পরাজয় মেনে নিতে হয় তাদের।

বিশ্বকাপের ২১তম আসরে ম্যাচের ১৫ মিনিটে দারুণ সেই হ্যাজার্ড ম্যাচের ১৮ মিনিটে আবারও দারুণ একটা শট নেন। যদিও গোল করতে পারেননি। ম্যাচের প্রথমার্ধে যদিও দুই দল সুযোগ মিস করেন বেলজিয়ামের হ্যাজার্ড।

ম্যাচের প্রথমার্ধে উভয় দল মোটামুটি কাউন্টার এ্যটাক করে। একের পর আক্রমণ করেছে, এরপরেও গোলশূন্য ছিল।
ফ্রান্সের চেয়েও বল দখলে অনেক এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। এমবাপেদের পায়ে যখন ৪০% বল ছিল। ঠিক ওই সময়ে লুকাকুদের বল দখলে ছিল ৬০%। বেলজিয়াম যেখানে ২৯৬টি পাস দেয়, সেখানে ফ্রান্স ২০১টি পাস দেয়। প্রথমার্ধে ফ্রান্স বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে দারুণ এক হেডে ফ্রান্সকে ১-০ তে এগিয়ে নেন স্যামুয়েল এমটিটি। বেলজিয়ামের জালে ১ গোল দেয়ার পরেও আরও একটি দারূণ সুযোগ নষ্ট করেছে ৯৮’র চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে বেলজিয়ামের হ্যাজার্ড ও ৭০ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন একই দলের এলডারওয়েলড।

এদিন ভিনসেন্ট কোম্পানি- লুকাকুরা ফ্রান্সের ডিপেন্ড ভেঙ্গে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ৭৯ মিনিটে ফ্রান্সের ডি-বক্সের সামনে হ্যাজার্ডকে বাধা দেন ফ্রান্সের জিরোড। যদিও তাকে কোন কার্ড এমনকি কোন ফ্রি কিক দেননি ম্যাচের রেফারি।
হ্যাজার্ডকে অবৈধভাবে বাধা দেয়ায় ৮৬ মিনিটে কার্ড পান টোলিসসো। ৮৬ মিনিটে কার্ড দেখেন কান্তে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯০+২) মিনিটে কার্ড দেখেন এমবাপে।

এই ম্যাচের নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স-বেলজিয়াম। ১৯০৪ সাল থেকে শুরু এই দুই দেশের লড়াই। এই ৭৪ বারের মধ্যে ৩০ জয় নিয়ে এগিয়ে আছে বেলজিয়াম। ফ্রান্সের জয় ২৫।

আর বাকি ১৯টি ম্যাচ শেষ হয়েছে অমীমাংসিত ভাবে। তবে বিশ্বকাপে এবার নিয়ে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স-বেলজিয়াম। ১৯৩৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সে দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেই জয়ের ধারা বজায় রেখেছে ফরাসিরা।

এসএইচ-০১/১১/০৭ (স্পোর্টস ডেস্ক)