উড়ন্ত ইন্ডিয়া মাটিতে আছড়ে পড়লো : ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৯ আপডেটঃ ৮:০৩ অপরাহ্ন

কিউইদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো টিম ইন্ডিয়ার। নিশ্চিত হলো কিউইদের ফাইনাল। ২৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৪৯.৩ ওভারে ২২১ রান করে ভারত।

বৃষ্টিতে মঙ্গলবার খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৪৬.১ ওভারে ২১১ রান। এরপর ম্যাচ গড়ায় রির্জাভ ডেতে। বুধবার আর মাত্র ১৮ রানই যোগ করতে পেরেছিলেন রস টেলররা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

ভারতের শেষ আশা ছিলেন গ্রেট ফিনিশার মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানআউটের দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে গেলেন তিনি। মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে রানআউটের শিকার হয়ে ফিরে যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনার এই ম্যাচটিতে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠলো নিউজিল্যান্ড।

গ্রেট ফিনিশার বলা হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। বলা হয়, খুব ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড় তিনি। কঠিন চাপের মুহূর্ত থেকেও দলকে বের করে আনার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। সেখানে তিনি যোগ্য একজন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজাকে। দু’জনের ব্যাটে ১১৬ রানের জুটি নিশ্চিত হারের ম্যাচটিকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল ভারত।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মহাবিপদ থেকে ধীরে ধীরে ভারতকে বের করে নিয়ে আসছেন ধোনি। সঙ্গে তিনি পেয়ে গেলেন রবীন্দ্র জাদেজাকে। ৯২ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর এই দুই ব্যাটসম্যানের ওপর ভর করে ভারতকে জয়ের রাস্তায় নিয়ে এসেছেন ধোনি এবং জাদেজা।

মাথার ওপর ঝেঁকে বসা রান তাড়ার চাপটা সামলাতে পারেননি। ট্রেন্টে বোলের বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে আকাশে বলটা তুলে দিলেন। জায়গায় দাঁড়িয়ে বলটি তালুবন্দী করে নিলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৫৯ বলে ৭৭ রান করে ফিরে যান জাদেজা। ৪টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার মারেন তিনি।

গ্রেট ফিনিশার বলা হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। বলা হয় খুব ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় তিনি। কঠিন চাপের মুহূর্ত থেকেও দলকে বের করে আনার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। সেখানে যদি তিনি যোগ্য একজন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজাকে, তাহলে তো কথাই নেই। দু’জনের ব্যাটে ১১৬ রানের জুটি নিশ্চিত হারের ম্যাচটিকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল ভারত।

কিন্তু জাদেজা ফিরে যাওয়ার পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন ধোনি। তবুও ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় ধোনি চেষ্টা করেন ভারতকে জয় এনে দেয়ার। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে লকি ফার্গুসনকে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলেন ধোনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, তৃতীয় বলে দ্রুত দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে আউট হয়ে ফিরে যান ধোনি। ৭২ বলে ৫০ রান করে আউট হন তিনি। এরপর বাকি ছিল কেবলই ভারতের পরাজয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

এর আগে ভারতীয় ইনিংসের ৯২ রান পর্যন্ত একে একে চাপ বাড়ছিল ওপর। মাত্র ২৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামার সময় যেটাকে সবাই মামুলি বলেছিল, সেটাই বিশাল এক হিমালয়ের সমান হয়ে দাঁড়িয়ে যায় ভারতের সামনে। ৫ রানে ৩ উইকেট যাওয়ার পর ২৪ রানে ৪ উইকেট। ৭১ রানে ৫ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান রিশাভ পান্ত। এরপর ৯২ রানের মাথায় ৬ নম্বর উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান হার্দিক পান্ডিয়াও।

রিশাভ পান্তের সঙ্গে লড়াকু একটা জুটি গড়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। ৪৭ রানের জুটিটাকে ভেঙে দেন মিচেল সান্তনার। ৩২ রান করে ফিরে গিয়েছিলেন পান্ত। এরপর ৩২ রান করলেন হার্দিক পান্ডিয়াও। সেই সান্তনারের বলেই শেষ পর্যন্ত সাজঘরের পথ দেখেন ভারতের এই অলরাউন্ডার। তার ক্যাচ ধরেন উইলিয়ামসন।

৫ রানে ৩ উইকেট আর ২৪ রানে ৪ উইকেট পড়ে যখন মহা ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়েছিল ভারতের, তখন ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়ে সৌধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তরুণ ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত। ধীরে ধীরে তার গড়া সৌধ মাঝ পথেই ভেঙে দিলেন মিচেল সান্তনার।

কিউই এই বাঁ-হাতি স্পিনারের বলে ছক্কা মারার চেষ্টা করেন পান্ত। কিন্তু একেবারে লাইন বরাবর দাঁড়িয়ে তার ক্যাচটা তালুবন্দী করে নেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ৫৬ বলে খুব কষ্ট করে গড়া ৩২ রানের ইনিংসটির যবনিকাপাত ঘটলো তার। ৭১ রানে পড়লো ৫ উইকেট।

বৃষ্টির কারণে একদিনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো দুদিনে। রিজার্ভ ডেতে এসেও অবশ্য খুব বেশি সুবিধা করতে পারছিল না নিউজিল্যান্ড। তাদের ইনিংস থামে ৮ উইকেটে মাত্র ২৩৯ রানে। ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪০ রানের।

কিন্তু মামুলি এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। দলের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি ফিরে যান ইনিংসের ১৬ বল পেরুতেই। এরপর একে একে ফিরে যান নির্ভরতার প্রতীক লোকেশ রাহুল এবং দিনেশ কার্তিক। ২৪ রানেই সাজঘরে ফিরে যান ভারতের নির্ভরযোগ্য ৪ ব্যাটসম্যান।

ম্যাট হেনরির দুর্দান্ত এক সুইংয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান চলতি টুর্নামেন্টে ৫টি সেঞ্চুরি করে ফেলা ভারতের মারকুটে ওপেনার রোহিত শর্মা। করেছেন মাত্র ১ রান।

পরের ওভারে এসে আরেক ব্যাটিং ভরসা বিরাট কোহলিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন ট্রেন্ট বোল্ট। যদিও কোহলি রিভিউ নিয়েছিলেন। আম্পায়ারস কল হওয়ার কারণে রিভিউতে বাঁচতে পারেননি কোহলি। তিনিও করেন ১ রান। তারপর হেনরির দ্বিতীয় শিকার লোকেশ রাহুল (১)। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। তাতে ৫ রানেই ৩ উইকেট নেই ভারতের।

লোকেশ রাহুল ফিরে যাওয়ার পর জুটি বাধেন রিশাভ পান্ত আর দিনেশ কার্তিক। ১৯ রানের জুটি বাধার পর আবারও ম্যাট হেনরির আঘাত। এবার ১০ম ওভারের শেষ বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে জিমি নিশামের দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হয়ে যান দিনেশ কার্তিক। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৫ বলে ৬ রান।

১২তম ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে রিশাভ পান্তের একটি ক্যাচ ড্রপ করেন জিমি নিশাম। না হলে ওই সময় আরও বড় বিপদে পড়তে পারতো ভারত।

এর আগে ৪৬.১ ওভার থেকে শুরু হয় আজকের খেলা। বাকি মাত্র ২৩ বলের (৩.৫ ওভার) জন্য আজ আবার বোলিং করতে নামতে হয় ভারতকে। তবে ভারতীয় পেসারদের কৌশলী বোলিংয়ের মুখে খুব বেশি রান যে স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পেরেছে কিউইরা, তা নয়। এই ২৩ বলের মধ্যেও তাদেরকে হারাতে হয়েছে ৩ উইকেট।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে খেলতে নেমে আজ স্কোরবোর্ডে কিউইরা যোগ করতে পেরেছে কেবল ২৮ রান। ৮ উইকেটে ২৩৯ রানে শেষ হয় কিউইদের ইনিংস। আগেরদিন ৬৭ রানে অপরাজিত থাকা রস টেলর যোগ করতে পেরেছেন কেবল ৭ রান। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে রবীন্দ্র জাদেজার সরাসরি এক থ্রোতে রানআউট হয়ে যান তিনি।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আগেরদিন শুরু হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালের লড়াই। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খুবই মন্থর গতির ব্যাটিং শুরু করে নিউজিল্যান্ড। এক পর্যায়ে তো ৩-এর নিচে ছিল রান তোলার গড়।

তবে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের কিছু দৃঢ়তা এবং শেষ দিকে রস টেলরের দৃঢ়তায় রান একটা চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দুইদিন মিলিয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান তুলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড।

রস টেলর রানআউট না হলে হয়তো স্কোরটা আরও একটু বড় হতো। ৯০ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তিনি করেন ৭৪ রান। টম ল্যাথাম ভুবনেশ্বর কুমারকে ছক্কা মারতে গিয়ে একেবারে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। এছাড়া ম্যাট হেনরি আউট হন ১ রানে। ৯ রানে মিচেল সান্তনার এবং ৩ রানে অপরাজিত থাকেন ট্রেন্ট বোল্ট।

আগের দিন ২৮ রানে ওপেনার হেনরি নিকোলস, জিমি নিশাম ১২ রানে এবং মার্টিন গাপটিল আউট হন কেবল ১ রান করে। ভুবনেশ্বর কুমার নেন ৩ উইকেট। জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা এবং ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল নেন ১টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : নিউজিল্যান্ড এবং ব্যাট করার সিদ্ধান্ত
নিউজিল্যান্ড : ২৩৯/৮, ৫০ ওভার (রস টেলর : ৭৪, উইলিয়ামসন ৬৭, হেনরি নিকোলস ২৮, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ১৬, জিমি নিশাম ১২, সান্তনার ৯*; ভুবনেশ্বর কুমার ৩/৪৩, বুমরাহ ১/৩৯, জাদেজা ১/৩৪, পান্ডিয়া ১/৫৫)

ভারত : ২২১/১০, ৪৯.৩ ওভার (জাদেজা ৭৭, ধোনি ৫০, পান্ডিয়া ৩২, রিশাভ পান্ত ৩২, কার্তিক ৬; ম্যাট হেনরি ৩/৩৭, মিচেল সান্তনার ২/৩৪, ট্রেন্ট বোল্ট ২/৪২, ফার্গুসন ১/৪৩)।

ফল : ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে দিলো নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচ সেরা : ম্যাট হেনরি।

এসএইচ-১৪/১০/১৯ (স্পোর্টস ডেস্ক)