শেষ রোমাঞ্চে পাকিস্তানের জয়

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ২৪, ২০২০ আপডেটঃ ৬:৪৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৪১ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তান ৩ বল আগে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় ম্যাচ শুরু হয়।

স্কোর: পাকিস্তান ১৪২/৫ (১৯.৩ ওভার)
বাংলাদেশ ১৪১/৫ (২০ ওভার)

আল-আমিনের প্রথম সাফল্য

আল-আমিনের শর্ট বল পুল করতে চেয়েছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। কিন্তু বল ঠিকঠাক উঠল না। নিচু হয়ে আসা বলে বোল্ড ইমাদ। ৪ বলে ৬ রান করেন ইমাদ। তার আউটের সময় পাকিস্তানের রান ৫ উইকেটে ১৩৩।

মালিকের ফিফটি

মুস্তাফিজের লেন্থ বল তুলে মেরেছিলেন শোয়েব মালিক। লং অফে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব দারুণ চেষ্টা করেছিলেন।কিন্তু বল তার হাতে আসলেও মুঠোবন্দি করতে পারেননি। বল গড়িয়ে যায় বাউন্ডারিতে। ওই চারে মালিক তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি।

শফিউলের দ্বিতীয় উইকেট

ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পেলেন শফিউল ইসলাম। বাবর আজমের পর তার শিকার ইফতিখার আহমেদ। ডানহাতি ব্যাটসম্যান শফিউলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১৬ রানে। তার আউটের সময় পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ১১৭।

পাকিস্তানের একশ

শফিউল ইসলামের শর্ট বল আলতো টোকায় ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন ইফতেখার আহমেদ। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ওই চারে পাকিস্তানের দলীয় রান তিন অঙ্ক স্পর্শ করে। ১৪.২ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ স্পর্শ করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের ইনিংসও এগিয়েছে একই ওভারে। ১৫তম ওভারের শেষ বলে বাংলাদেশের দলীয় রান একশ স্পর্শ করে।

প্রতিরোধ ভাঙলেন আমিনুল

শোয়েব মালিক ও আহসান আলীর ৪৬ রানের জুটিতে দারুণভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। ১২তম ওভারে এ জুটি ভাঙেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। লেগ স্পিনারের সোজা বল ক্রস করতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ৩৬ রান করা আহসান। তার আউটের সময় পাকিস্তানের রান ৩ উইকেটে ৮১।

শেষ ১০ ওভারে দরকার ৭৪

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তান প্রথম ১০ ওভারে তুলেছে ৬৮ রান। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে তাদের তুলতে হবে ৭৪ রান।

পাকিস্তানের ৩৬ বলে ৩৬

পাওয়ার প্লে’তে ৩৬ রান তুলেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ প্রথম ৬ ওভারে তুলেছিল ৩৫ রান। তবে শুরুতেই কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। পাকিস্তান হারিয়েছে ২ উইকেট।

মুস্তাফিজকে উইকেট উপহার দিলেন হাফিজ

লেগ স্ট্যাম্পের ওপরে একের পর এক বল করে যাচ্ছিলেন মুস্তাফিজ। লাইন ও লেন্থে শুরু থেকেই হচ্ছিল গড়বড়। ব্যাটসম্যানদের হাতে হজম করেছেন কয়েকটি বাউন্ডারিও। কিন্তু তার হাত ধরেই বাংলাদেশ পেল দ্বিতীয় সাফল্য। মুস্তাফিজের স্লোয়ার শর্ট বলে ভুল শট খেলে উইকেট উপহার দিয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ। ১৬ বলে ১৭ রান করেন হাফিজ। তার আউটের সময় পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ৩৫।

শফিউল ফেরালেন বাবর আজমকে

পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজকে বেশিক্ষণ টিকতে দিলেন না শফিউল ইসলাম। ডানহাতি পেসারের লেন্থ বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাবর আজম। শফিউলের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। বাবর আজম আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম ডাক।

গাদ্দাফিতে সর্বনিম্ন দলীয় রান

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসে সবথেকে কম রান করল বাংলাদেশ।আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের রান মাত্র ১৪১। এর আগে সর্বনিম্ন রান ছিল শ্রীলঙ্কার দখলে। গত বছর শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ১৪৭ রান তুলেছিল।

প্রত্যাশা পূরণ হয়নি শেষটাতেও

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে কি ভুল করলেন মাহমুদউল্লাহ? ম্যাচ শেষে সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে। তবে পুরো দল যেভাবে ব্যাটিং করলেন তাতে হতাশাই ঝরছে সর্বত্র। আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ ওভারে বাংলাদেশের পুঁজি মাত্র ১৪১ রান।

শুরু থেকেই মন্থর ব্যাটিং দুই ওপেনার তামিম ও নাঈমের। ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি হলেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি তারা। পরের ব্যাটসম্যানরাও পারেননি দলের প্রয়োজন মেটাতে। ফলে স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি পায়নি বাংলাদেশ।

উইকেট কিছুটা ধীর গতির হওয়ায় টাইমিংয়ে গড়বড় হয়েছে। বল থেমে থেমে আসছিল। স্পিন বল কয়েকটি উঁচু-নিচুও হয়েছে। সব মিলিয়ে উইকেটের শতভাগ সুবিধা নিয়েছে স্বাগতিক বোলাররা। নিয়ন্ত্রিত বোলিং তারা আটকে রাখেন ব্যাটসম্যানদের।

দারুণ স্লোয়ারে সৌম্য সাজঘরে

বাঁহাতি পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদির দারুণ এক স্লোয়ার ডেলিভারীতে তালগোল পাকালেন সৌম্য সরকার। বল মিস করে বোল্ড সৌম্য। ৫ বলে ৭ রান করে সৌম্য ফিরেছেন সাজঘরে। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১২৮।

রউফের প্রথম উইকেট

অভিষেক ম্যাচে উইকেটের খাতা খুললেন হারিস রউফ। আফিফ হোসেনকে বোল্ড করে উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন দ্রুতগতির এ বোলার। দ্রুত রান তোলার তাড়ায় এলোমেলো শট খেলছিলেন আফিফ। টাইমিং হচ্ছিল না কিছুতেই। শেষমেশ বোল্ড হয়ে আফিফ ৯ রানে ফেরেন সাজঘরে। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ১১৯।

বাংলাদেশের একশ

১৫তম ওভারের শেষ বলে এক রান নিলেন আফিফ হোসেন। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসা রানে বাংলাদেশের দলীয় রান তিন অঙ্ক স্পর্শ করে। ৪৬ বলে দলীয় পঞ্চাশ ছুঁয়েছিল বাংলাদেশ। পরের ৫০ রান তুলতে খেলতে হল ৪৪ বল।

নাঈমের ৭ রানের আক্ষেপ

রান আউটের পর এবার উইকেট পেলেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। তার গুগলি ঠিকমতো পড়তে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম। তেড়েফুঁড়ে শট নিতে গিয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হাওয়ায় ক্যাচ তোলেন। লং অনে লোপ্পা ক্যাচ ধরে নাঈমকে সাজঘরের পথ দেখান ইফতিকার আহমেদ। ৪১ বলে ৪৩ রান করেন নাঈম। ৩ চার ও ২ ছক্কা ছিল তার ছোট্ট ইনিংসে। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৯৮।

লিটন ফিরলেন রান আউটে

নিজের বোলিংয়ে ফিল্ডিং করে দারুণ থ্রো শাদাব খানের। বল সরাসরি আঘাত করল স্ট্যাম্পে। বল যখন উইকেটে আঘাত করল তখনও ক্রিজের বাইরে লিটন। দুই রান নিতে গিয়ে লিটন রান আউট হয়ে ফিরলেন। ১৩ বলে ১২ রান এসেছে তার ব্যাটে। লিটনের আউটের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৯৮।

সেট হয়ে তামিম সাজঘরে

২২ গজে থিতু হয়েছিলেন ভালোভাবেই। শুরুতে মন্থর ব্যাটিং করলেও ধীরে ধীরে আগ্রাসন দেখানো শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তামিম। দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। তামিমের আউটে ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি। ৩৪ বলে ৩৯ রান করেছেন তামিম। ৪ চার ও ১ ছক্কা হাঁকিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৭১।

১০ ওভারে বাংলাদেশের ৬২

ইনিংসের অর্ধেক ওভার শেষে বাংলাদেশের রান মাত্র ৬২। উদ্বোধনী জুটি দলের চাহিদা মেটাতে পারেননি। পারেনি ২২ গজে ঝড়ো ব্যাটিং করতে। অবশ্য উইকেট বেশ মন্থর। বল আসছিল থেমে থেমে। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বোলাররা পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগিয়েছে। বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিংয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা থামিয়ে রেখেছেন।

তামিমের চারে পঞ্চাশ বাংলাদেশের

পেসার হাসনাইন হোসেনের লেগ স্ট্যাম্পের ওপরের বল ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান তামিম। ওই চারে বাংলাদেশের রান পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় পঞ্চাশ রান পায় বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লে’তে ‘মন্থর’ ব্যাটিং

পাওয়ার প্লে’তে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ নাঈম। ধীর গতির উইকেটে ৬ ওভারে রান এসেছে ৩৫। সতর্ক শুরু করেন উদ্বোধনী জুটি। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ২ চার। খানিকটা আগ্রাসন দেখানো নাঈম ৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পাওয়ার প্লে’তে তামিম ১৯ বলে ১৫ ও নাঈম ১৭ বলে ২০ রান করেন।

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে তামিম

বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। শীর্ষে উঠতে তামিম ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসানকে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সাকিবের রান ১৫৫৬। ১২ রান পিছিয়ে থেকে তামিম লাহোরে ব্যাটিং নেমেছিলেন তামিম। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে হারিস রউফকে চার মেরে সাকিবকে টপকে যান তামিম। প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ রানের মালিক তামিমই। বাংলাদেশের জার্সি বাদে বিশ্ব একাদশের হয়ে ৪ ম্যাচে ৫৭ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার।

টস

গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, মোহাম্মদ নাঈম, আফিফ হোসেন, লিটন কুমার দাস (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিন হোসেন।

দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে পাকিস্তান

পাকিস্তানের হয়ে আজ অভিষেক হয়েছে আহসান আলী ও হারিস রউফের। ডানহাতি ওপেনার আহসান আলী ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। পেসার হারিস রউফ সম্প্রতি বিশ ব্যাশ লিগে দ্যুতি ছড়িয়ে সবার নজর কাড়েন।

পাকিস্তান একাদশ: আহসান আলী, বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, ইফতিখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), শাদাব খান, হারিস রউফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাসনাইন।

আরএম-২৯/২৪/০১ (স্পোর্টস ডেস্ক)