বাংলাদেশের ‘প্রথম’ দাবা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন নীড়

রাউন্ড রবিন অথবা সুইস লিগ এই দু’টো পদ্ধতিই বাংলাদেশের দাবায় প্রচলিত। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ডাবল রাউন্ড রবিন লিগ টুর্নামেন্ট হয়েছে বাংলাদেশে। ডাবল রাউন্ডে এক প্রতিপক্ষের একবার সাদা-আরেকবার কালো ঘুটি নিয়ে খেলা হয়। এলিগ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল চেস একাডেমি দেশে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক আরবিটার হারুনুর রশিদ। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ দাবার সঙ্গে থাকা হারুন ডাবল রাউন্ড পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, ‘বিশ্বের অনেক বড় টুর্নামেন্ট এভাবে ডাবল রাউন্ডে হয়। বাংলাদেশে আগে কখনো হয়নি। এবারই প্রথম বাংলাদেশে হয়েছে।’

এলিগ্যান্ট চেস একাডেমী আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে এবার ৮ জন দাবাড়– অংশগ্রহণ করেছেন। ১৪ রাউন্ডের খেলায় দুই রাউন্ড আগেই ফিদে মাস্টার মনন রেজা নীড় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ডাবল রাউন্ড টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নীড় বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে লক্ষ্য ছিল বৃদ্ধি করা। চ্যাম্পিয়ন হয়েছি ভালো লাগছে তবে আরো ভালো খেলার ইচ্ছে ছিল। জেতা-পয়েন্ট পাওয়ার সাথে ভালো খেলার পার্থক্য রয়েছে।’

নীড়ের বর্তমান রেটিং ২৪২৩। এই টুর্নামেন্টে ফিদে স্বীকৃত হওয়ায় রেটিং বাড়বে মাস শেষে। আজ ১৩ তম রাউন্ডে নীড় হেরেছেন আরেক ফিদে মাস্টার মেহেদী হাসান পরাগের কাছে। আগামীকাল টুর্নামেন্টের শেষ রাউন্ড। এই টুর্নামেন্টে খেলছেন আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিল, ক্যান্ডিডেট মাস্টার সাকলাইন, ফিদে মাস্টার নাইম, তৈয়বুর রহমান, সৈয়দ মাহফুজুর রহমান ও মহিলা ফিদে মাস্টার নোশিন আঞ্জুম।

ডাবল রাউন্ড টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ান শাকিলের। হঠাৎ এমন ভাবনার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা আসলে বেশি টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাই না। তাই এক টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বেশি গেম খেলে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য ডাবল রাউন্ড ভাবনা। সামনে গ্র্যান্ডমাস্টার ও অন্য শীর্ষ দাবাড়–দের নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

শিশুদের অনেকের ফুটবলার, ক্রিকেটার হওয়ার যেমন ঝোক তেমনি দাবাড়– হওয়ার ইচ্ছেও অনেকের। সেই লক্ষ্যে এলিগ্যান্ট ইন্টারনশ্যাল একাডেমীর পথচলা। এখানে আগ্রহীরা যেমন দাবা শিখতে পারে আবার অনেক সময় এই একাডেমী দাবা টুর্নামেন্টও আয়োজন করে। এই একাডেমীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা মলি। সাবেক দাবাড়– ও ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য এই টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্পর্কে বলেন, ‘শাকিল ভাইয়ের পরিকল্পনা বেশ সুন্দর ও যৌক্তিক মনে হয়েছে। সামনে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ রয়েছে এর আগে ১৪ গেমের একটি টুর্নামেন্ট খেলতে পারলে অনেকের জন্যই ভালো প্রস্তুতি। তাই আমরা এই টুর্নামেন্ট করছি। দাবার উন্নয়নে এ রকম ডাবল রাউন্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।’

প্রথমবারের মতো ডাবল রাউন্ড টুর্নামেন্টে প্রাইজমানি অবশ্য খুব বেশি নয়। প্রথম-তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের সর্বমোট প্রাইজমানি ৫০ হাজার। ১৪ রাউন্ডের খেলায় অংশগ্রহণ করতে অনেকের যাতায়াত ব্যয়ই কয়েক হাজার টাকা। তাই এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দাবাড়–দের বেশ প্রশংসাই করলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, ‘এই টুর্নামেন্ট মূলত নীড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার রেটিং বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য সবার ক্ষেত্রে ততটা প্রাপ্তি না হলেও একজনের জন্য এই ত্যাগটি অত্যন্ত দারুণ।’

এসএ-০৯/১৪/২৪(স্পোর্টস ডেস্ক)