দুই কোচ যুগলবন্দী

গত এক যুগের বেশি সময় বাংলাদেশের সাঁতারের অন্যতম বড় তারকা মাহফিজুর রহমান সাগর। জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন। এক সময় নিজের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন নিজেই। ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ আসর অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন দুই বার। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেছিলেন সাঁতারু সাগর।

এক বছর আগে পুল থেকে অবসর নেয়ার পর এখন জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন সাগর। জীবনসঙ্গীনী হিসেবে বেছে নিয়েছেন আরেক কোচ ইসরাত জাহান নাহিমাকে। তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) টেবিল টেনিস প্রশিক্ষক হিসেবে রয়েছেন। বিকেএসপিতে নারী টিটির যাত্রা শুরু হয়েছে ২০২০ সালে। প্রথম নারী কোচ হিসেবে নাহিমা নিয়োগ পান ২০২২ সালে।

গতকাল সাগর-নাহিমার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সাঁতারু সাগর নিজের জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস নিয়ে বলেন, ‘অনেকটা দ্রুত পরিসরেই সব কিছু হয়েছে। বিকেএসপির আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে আলোচনার সূত্রপাত। এরপর দুই পরিবারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতার দিকে আগায়। গতকালই বেশ দ্রুততার সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।’

পাবনার ছেলে সাঁতারু সাগরের বেড়ে উঠা বিকেএসপিতেই। সেই বিকেএসপিতেই তার স্ত্রীর কর্মস্থল। স্ত্রী নাহিমা বিকেএসপির কোচ হলে তার বেড়ে উঠা ও স্কুল-কলেজ অবশ্য পুরান ঢাকার লালবাগেই। সাগর ও নাহিমা দুই জনের উচ্চ শিক্ষা জাহাঙ্গীরনগরে। ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছিলেন সাগর আর নাহিমা পদার্থ বিজ্ঞানের। তিন ব্যাচের সিনিয়র-জুনিয়র হলেও ক্যাম্পাসে সেভাবে পরিচয় বা পরিণয় কোনটাই ছিল না দু’জনের।

নাহিমা নিজেও জাতীয় পর্যায়ের টিটি খেলোয়াড় ছিলেন। বিশেষ করে জুনিয়র পর্যায়ে একাধিকবার বাংলাদেশ টিটি দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতও গিয়েছেন বার তিনেক। ঘরোয়া টিটি লিগে আবাহনীর হয়েও খেলেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার পর টিটিতে আর সেভাবে সময় দেননি। পড়াশোনাই ছিল ধ্যানজ্ঞান। পদার্থবিজ্ঞানের পাঠ চুকিয়ে আবার ফিরেছেন টিটিতে। ২০২০-২১ পর্যন্ত কিছু টুর্নামেন্ট খেললেও পরবর্তীতে কোচিংয়ে যান। খেলার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও কোচিং সনদ থাকায় বিকেএসপিতে চাকুরি পেয়ে যান নাহিমা।

স্বামী অলিম্পিয়ান এখন কোচ। স্ত্রী নাহিমাও চান ক্রীড়াঙ্গনকে বিশেষ কিছু দিতে, ‘আমার অবশ্যই কোচিংয়ে ভালো কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে। এজন্য উচ্চ শিক্ষা প্রয়োজন। আমি যেহেতু পদার্থ বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছি। তাই স্পোর্টস বায়োমেকানিক্স বা স্পোর্টস ফিজিওলজি নিয়ে আরেকটি মাস্টার্স করার ইচ্ছে।’ স্ত্রীর ইচ্ছের প্রতি পূর্ণ সায় রয়েছেন স্বামীর, ‘সে নিজেও খেলোয়াড় ছিল এখন কোচ। পদার্থ বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষা, টিটি কোচিং বা খেলা-ধূলায় গবেষণা যেটাতে তার স্বাচ্ছন্দ্যে সেখানেই আমার সহযোগিতা থাকবে।’

এসএ-০৮/০৮/২৪(স্পোর্টস ডেস্ক)