নিলামে উঠেছে চাঁদের কণা

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:২৮ অপরাহ্ন

১৯৭০ সালে রাশিয়ার ‘লুনা ১৬’ অভিযানে পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়েছিল উপগ্রহের ওই তিনটি টুকরো। পরবর্তী কালে রুশ সরকার সেগুলো উপহার দেয় সোভিয়েত স্পেস প্রোগ্রামের প্রয়াত চিফ ডিজাইনার এবং ডিরেক্টর সের্গেই পাভলোভিচ কোরোলেভের স্ত্রী নিনা ইভানোভনা কোরোলেভাকে।

১৯৯৩ সালে সেগুলো নিলামে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ ডলারে কিনেছিলেন কোনও এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে ফের সেই চাঁদের টুকরোগুলো নিলামে তুলল সদবি’জ। এবার কিনেছেন এক মার্কিন সংগ্রাহক। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ক্ষেত্রেও নাম গোপন রাখা হয়েছে।

পৃথিবী থেকে লাখ মাইল দূরের বাসিন্দা চাঁদ। তার ভর লাখ কোটি টন। তবু পৃথিবীতে খুব সামান্যই ‘মুনরক’ বা চাঁদের টুকরো রয়েছে। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে আমেরিকার ছ’বারের অ্যাপোলো অভিযানে মোট ৩৮২ কেজি চাঁদের মাটি নিয়ে আসা হয়েছিল।

তৎকালীন সোভিয়েত তাদের তিনটি ‘লুনা ল্যান্ডারস’-এ নিয়ে এসেছিল ৩০১ গ্রাম। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমেরিকা ও রাশিয়ার আনা বেশির ভাগ নমুনাই গোপনে সরকারি হেফাজতে রয়েছে। সেগুলো বিক্রি করা বা কেনা যায় না।

সদবি’জ জানিয়েছেন, বাজারে মাঝেমধ্যে মুনরক কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো হয় চোরাই জিনিস, না হলে নকল।

রুশ ‘লুনা ১৬’-র নমুনাই একমাত্র ব্যতিক্রম। তার পিছনে একটি ব্যতিক্রমী গল্পও রয়েছে। সেই অভিযানে কোনও মানুষ যায়নি। একটি রোবট পাঠানো হয়েছিল। সে-ই নিয়ে আসে চাঁদের কণাগুলো। একটি ছোট্ট কাচের বাক্সে তার আনা তিনটি টুকরোকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

নিচে পাঁচ বাই পাঁচ সেন্টিমিটার ধাতব প্লেটে খোদাই করে লেখা, ‘লুনা ১৬’-র আনা মুনরক। একটি ম্যাগনিফায়ার লাগানো, চাঁদের কণাগুলিকে বড় করে দেখার জন্য। এগুলোও সরকারি সম্পত্তি ছিল। পরে কোরোলেভের স্ত্রীকে দেওয়া হয়। সোভিয়েতের মহাকাশ গবেষণার স্তম্ভ ছিলেন কোরোলেভ। ১৯৬৬ সালে তিনি মারা যান।

স্তালিনের অত্যাচারের হাত থেকে বেঁচে ফেরা কোরোলেভ পরে সোভিয়েতের মহাকাশ গবেষণার রূপকার হয়ে ওঠেন। তার হাত ধরেই সোভিয়েতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ-যন্ত্র তৈরি, কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো, মহাকাশে প্রাণি পাঠানো, প্রথম মানুষ পাঠানো, প্রথম কোনও নারীকে পাঠানো। কিন্তু এই অনেক ‘প্রথম’-এর কাণ্ডারিকে কৌশলগত কারণেই আড়ালে রেখেছিল সরকার।

মৃত্যুর পরে তার স্ত্রীকে স্বীকৃতি স্বরূপ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ ‘লুনা ১৬’-এর আনা ২০০ মিলিগ্রাম চাঁদের টুকরো উপহার দেওয়া হয়। সোভিয়েত পতনের পরে ১৯৯৩ সালে সেই মুনরক নিলামে ওঠে। এবার ফের সেগুলো নিলামে তুলল সদবি’জ।

এসএইচ-২৩/০১/১২ (প্রযুক্তি ডেস্ক, তথ্য সূত্র: আনন্দবাজার)