মালয়েশিয়ায় বিদেশী কর্মী নিয়োগ ফের পেছালো

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ আপডেটঃ ৬:৪০ অপরাহ্ন

আবারও পিছিয়েছে মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া। তবে অবৈধ কর্মীদের সমস্যা মোকাবেলার গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির সরকার।

জানা গেছে, নতুন করে বিদেশী কর্মী নিয়োগের জন্য নতুন পদ্ধতি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারষ্টেন্ডিং (এমওইউ) এর সাথে এখনি সমঝোতা স্বাক্ষর করতে অনিহা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। ফলে বাংলাদেশ,নেপাল সহ অনান্য দেশ থেকে নতুন করে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এক ধাপ পিছিয়ে গেলো।

এ দিকে, ঢাকার ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির নামে এখনো মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি কর্মী।

এর আগে দেশটির সরকার ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব কর্মী পাঠানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে শ্রমিক পাঠাতে না পারলে চাহিদাপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

তবে, বেধেঁ দেয়া সময়ও শেষ হয়েছে ৩০ নভেম্বও শুক্রবার। এতে মালয়েশিয়ার এজেন্ট, অপেক্ষমাণ শ্রমিক, ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগীসহ অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। যদিও অপেক্ষমাণ কর্মীরা যাতে দ্রুত দেশটিতে যেতে পারে সেই লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনে জরুরি ভিত্তিতে স্পেশাল সেল খোলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, পাইপলাইনে আটকে থাকা এখনো ত্রিশ হাজারেরও বেশী কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এসব কর্মীর নামে কলিং ও মেডিক্যালসহ সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে। তারপরও যেতে পারছেন না। এই সময়ের মধ্যে ঢাকার মালয়েশিয়ান হাইকমিশন থেকে ঠিকমতো স্ট্যাম্পিং দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ডেট লাইনের আগেই গত মাসের ১৫-১৬ নভেম্বর থেকে স্ট্যাম্পিং বন্ধ রেখেছে মালয়েশিয়া হাই কমিশন। পাসপোর্টও জমা নিচ্ছে না। কী কারণে তারা জমা নেয়া বন্ধ করেছে সে বিষয় জানা যায়নি। তবে নতুন করে যদি মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে সময় বাড়িয়ে না নেয়া যায় তাহলে এসব কর্মীর যাওয়া অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, এখনো ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির নামে ৩০ হাজার প্লাস কর্মী যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম কাউন্সিলর অতিরিক্ত সচিব মো: সায়েদুল ইসলাম ১ ডিসেম্বর শনিবার জানান, যাদের কলিং হয়েছে এবং ভিসা স্ট্যাম্পিং হয়েছে এসব কর্মী আসতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এসব বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা এবার অল্প অভিবাসনব্যয়ে কর্মী নিয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া, সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা ও এজেন্সিগুলোর মানসম্পন্ন ট্রেনিং সেন্টার থাকা ছাড়াও শ্রমিক-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু স্থগিত থাকা শ্রমবাজার নতুন করে চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শুধু দেয়া বাকি রয়েছে।

এ দিকে নতুন বিদেশী কর্মী নিয়োগের আগে দেশটিতে থাকা অবৈধ কর্মীদের সমস্যা মোকাবেলার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে মালয়েশিয়ার সরকার। মানব সম্পদ মন্ত্রী এম কুলসেগারান জানান, বর্তমানে অবৈধ বিদেশী কর্মীদের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সাথে আলোচনা চলছে। তবে কবে নাগাদ চালু হতেপারে সে বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয়।

মন্ত্রী বলেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং হংকং এর মতো দেশগুসি যখন এমওইউ এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে তখন তাদের শর্ত থাকে যে, কর্মী প্রেরণ করতে ইচ্ছুক দেশগুলির সরকার তাদের অবৈধ কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে কঠোর অবস্থান নেবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন আমরা যা বলছি তা খুবই সহজ, যদি আপনি আমার দেশে শ্রমিক পাঠান তবে আপনাকে অবশ্যই সেরা শ্রমিক পাঠাতে হবে, আপনাকে অবশ্যই নিয়মনিষ্ঠ লোক পাঠাতে হবে।

চলতি বছরে মার্কিন ষ্ট্যাট ডিপার্টমেন্টের টিআইপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মালয়েশিয়ার যে অবনতি ঘটছে তার বিশেষ কারণ হিসেবে অবৈধ কর্মীদের বিষটিই দেখছেন কুলাসেগারান। বুধবার (২৮ নভেম্বর) ২৫ তম আসিয়ান শ্রম মন্ত্রীদের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলছেন, আমরা যদি আরও এক স্তর নিচে যাই, তাহলে বিশ্বের সকল প্রধান দেশগুলি আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আনবে। তখন বিদেশী দেশগুলি এই দেশে আর বিনিয়োগ করতে চাইবে না।

এ দিকে দেশটিতে কর্মরত বিদেশী কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। এটি মালয়েশিয়ার সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (সোসো) অধীনে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (সোসো) অধীনে স্থানীয় নাগরিকরাই সুবিধা পেত; তবে এখন বিদেশী কর্মীদেরকেও এর আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কর্মস্থলে দূর্ঘটনায় পরিমাণ কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়ন হলে নিয়োগকর্তারা বিদেশী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও স্বচেষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মাসের ২১ নভেম্বর বুধবার মানব সম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

মানব সম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান জানিয়েছেন, বিদেশী কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের সোসো’র সঙ্গে নিবন্ধন করতে হবে এবং কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা আইন ১৯৬৯ (অ্যাক্ট ৪)-এর অধীনে কর্মসংস্থানে প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, এতে কর্মসংস্থানে ক্ষতির পরিকল্পনার অধীনে চিকিৎসা সুবিধা, অস্থায়ী কর্ম অক্ষমতা সুবিধা, স্থায়ী অক্ষমতা সুবিধা এবং পুনর্বাসন সুবিধার পাশাপাশি ৬ হাজার ৫০০ রিঙ্গীত প্রত্যাবাসন খরচের মতো সুবিধাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দেশ জুড়ে মোট ৫৪টি সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার (সোসো) অফিস রয়েছে। এসবের যে কোনটিতে নিবন্ধন করা যাবে এবং এটি ব্যস্তবায়নে মন্ত্রণালয় সোসো’কে সঙ্গে নিয়ে শিগগির স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসবেন বলেও জানিয়েছে কুলাসেগারান।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২.২ মিলিয়ন বিদেশী কর্মী ছিল। তাদের বড় একটি অংশ কৃষি ও নির্মাণ শিল্পে কর্মরত আছে।

এদিকে চলতি বছরে অন্য একটি সংস্থার প্রদিবেদনে দেখানো হয়, গত বছর এই দুই খাতে ৪০.৫ শতাংশ এবং উৎ্পাদন খাতে ২৩ শতাংশ বিদেশী কর্মীরা কাজ করেছে।

এসএইচ-১১/০৫/১২ (প্রবাস ডেস্ক)