মৌলভীবাজারে কিশোরকে বেঁধে পিটিয়ে মারলো প্রেমিকার ভাই

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ আপডেটঃ ৯:২৭ অপরাহ্ন

সুলেমান নামের তেরো বছর বয়সি এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারই প্রেমিকার ভাই। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রেম নাকি পূর্ব শত্রুকা তা এখনি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ২ নারীসহ একই পরিবারের ৩ জনকে আটক করেছে।

নিহত কিশোরের বড় ভাই ইমান আহমদ বাদী হয়ে রোববার কুলাউড়া থানায় ৫ জনের নামে হত্যা মামলা (মামলা নং-১২) দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পূর্বফটিগুলি এলাকার আনু মিয়ার মেয়ের সাথে একই এলাকার মৃত বাজিত মিয়ার ছেলে সুলেমান মিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার রাতে সুলেমান মিয়া আছলিমার সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যায়।

এসময় আছলিমার বড় ভাই রেদওয়ান (২৫) তার বোনের সাথে সুলেমানকে দেখতে পেয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।

এক পর্যায়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক মিয়াসহ আরও লোকজন এসে সুলেমানকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার পরদিন শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলেমানের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক জানিয়েছেন-‘নিহত কিশোরের সাথে আনু মিয়ার অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দিন কিশোর সুলেমান মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিলো।

সেখানে মেয়েটির আপন ভাই তাদের দেখে আনু মিয়াসহ কিশোরের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ওসমানি হাসপাতালে ছেলেটির মৃত্যু হয়।’

মামলায় অভিযুক্ত রেদওয়ান (২৫), তার বাবা আনু মিয়া (৬৫), মা পিয়ারা বেগম (৪০) ও তার বোন আছলিমা বেগম (১৫)-কে আসামী করা হয়। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ অভিযুক্ত রেদওয়ান বাদে সবাইকে আটক করেছে।

কর্মধা ইউনিয়নের মেম্বার মো. মাসুক মিয়া জানান, পূর্ব শত্রুতা থাকতে পারে। আমি ছেলেকে উদ্ধার করে দ্রুত মৌলভীবাজার হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর সেখান থেকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে সে মারা যায়।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমদ বলেন-‘প্রেম নাকি পূর্ব শত্রুতা এ দু’টি বিষয় মাথায় রেখে আমাদের তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত নারীসহ ৩জন আটক রয়েছে। আশাকরি তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হবে।

বিএ-১৩/০৮-০৯ (আঞ্চলিক ডেস্ক)