পাকিস্তানি আমলের স্থলমাইন-গ্রেনেড ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৭, ২০১৯ আপডেটঃ ৬:০৩ অপরাহ্ন

বগুড়ার আদমদীঘির রামপুরা গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে মাটি খুঁড়ে পাওয়া ছয়টি স্থলমাইন ও তিনটি গ্রেনেড ধ্বংস করা হয়েছে। রোববার সকালে আদমদীঘির ছাতিয়ান গ্রামের দস্তকিরের ইটভাটার ফাঁকা স্থানে বগুড়া সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল এই বিস্ফোরকগুলো ধ্বংস করে। বিকট শব্দে সেগুলো বিস্ফোরিত হলে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞ টিমের প্রধান বগুড়া ১১ পদাতিক ডিভিশনের ক্যাপ্টেন আরিফ মোহাম্মদ কনক বলেন, বিস্ফোরকগুলো অনেক পুরনো। কিন্তু এতোদিন মাটির নিচে থাকার পরও কার্যক্ষমতা হারায়নি। গ্রেনেড ও স্থলমাইনগুলো পাকিস্তানি আমলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল।

যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। গ্রেনেড ও স্থলমাইনগুলো উদ্ধারের পর আমাদের টিম এগুলো ধ্বংস করেছে। ফলে আর কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই।

গতকাল শনিবার বিকেলে আদমদীঘির রামপুরা গ্রামে পাঁচ-ছয় শিশু পুকুর পাড়ে খেলা করছিল। সন্ধ্যায় ইউসুফ নামে এক শিশু ধান কাটার কাঁচি দিয়ে মাটি খোঁড়ার সময় এই স্থলমাইন ও গ্রেনেড দেখতে পায়। সেখান থেকে একে একে ৯টি স্থলমাইন ও গ্রেনেড বের হয়। শিশুরা খেলনা ভেবে এগুলো নাড়াচাড়া করছিল। পরে গ্রামবাসী সেগুলো দেখতে পেয়ে একটি বালতির পানিতে ডুবিয়ে রাখেন।

পরে থানায় খবর দিলে রাতে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে। এসব স্থলমাইন ও গ্রেনেডের গায়ে ১৯৬৫ সাল লেখা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে গত দুদিনের বৃষ্টিতে পুকুরের ওই স্থানের মাটি সরে যাওয়ায় এগুলো বের হয়।

রামপুরা গ্রামের ইনছের আলী বলেন, শিশুদের কাছে আমি প্রথমে এগুলো দেখতে পাই। আমার দেখেই সেগুলো আসল বলে সন্দেহ হলে গ্রামবাসীকে বলি। পরে সবাই এসে সেগুলো পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর থানায় খবর দেই।

আদমদীঘি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে বোমাগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর টিম এসে সেগুলো ধ্বংস করে।

বিএ-১০/২৭-১০ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)