ভিকারুননিসা স্কুলের আন্দোলন স্থগিত

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৬:৩৯ অপরাহ্ন

শিক্ষকদের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে পরীক্ষা ও ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই ঘোষণা দেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনুষ্কা রায়।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে শিক্ষকেরা আমাদের সবগুলো দাবি পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। আর যেগুলো আইনি বিষয়, সেগুলো আইনের মাধ্যমেই সমাধান হবে। তাই শিক্ষকদের উপর আস্থা রেখে আমরা আন্দোলন স্থগিত করছি। আগামীকাল শুক্রবার যাদের পরীক্ষা, তারা অংশ নেবেন। আর পরের দিন শনিবার থেকে আমরা সবাই ক্লাসে ফিরে যাব।’

এর আগে বিকেল ৩টা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভিকারুননিসার শিক্ষকেরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা এ বৈঠক হয়।

এর আগে সকালে প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা গভর্নিং কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ এবং অরিত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য তাদের কাছে কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।

পরে দুপুরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে পদত্যাগে রাজি আছেন বলে জানান।

নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় তার বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই। এই ধরনের ঘটনা আইনের প্রক্রিয়ায় আনা উচিত, যেন ভবিষ্যতে কোনো বাবা–মায়ের বুক খালি না হয়।’

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু, এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা করেন তার বাবা। আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে দায়ের মামলায় ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আরা এবং হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়।

বুধবার রাতেই ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয় শিক্ষক হাসনা হেনাকে। আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এসএইচ-২৯/০৬/১২ (শিক্ষা ডেস্ক)