নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতি : রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুদকের অভিযান

প্রকাশিতঃ মার্চ ৫, ২০২০ আপডেটঃ ১০:০৩ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পদোন্নতি নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের হটলাইনে অভিযোগ আসে- রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান সম্প্রতি কোনো প্রকার বোর্ড সভা না করে ছয় কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ঘুষও নিয়েছেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ অভিযান পরিচালনা করে। সরেজমিনে, পরিদর্শন ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে উল্লিখিত পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

অভিযানকালে সংগৃহীত তথ্যাবলি বিশ্লেষণে তারা দেখতে পায়, বিদ্যমান জনবল কাঠামোতে কোনো শূন্য পদ না থাকলেও মনগড়া পদ সৃষ্টি করে ছয় কর্মকর্তাকে ষষ্ঠ গ্রেড সুপারসিড করে সপ্তম গ্রেড থেকে সরাসরি পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়।

টিমের পক্ষ থেকে বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান যে, তাকে না জানিয়েই এ পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নতুন পদে বেতন ভাতা দাবির ফাইল তার নিকট উপস্থাপন করা হলে তিনি এ বিষয়ে অবগত হন। এ অভিযোগের বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে অভিযান পরিচালনাকারী টিম।

একই টিম রাজশাহী সদরের সাব-রেজিস্টার অফিসে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। দুদক হটলাইনে অভিযোগ আসে, গত বছরের ২৭ নভেম্বর রাজশাহী মহানগরীর একটি ফিলিং স্টেশনের মালিকের চারটি দলিল সম্পাদনে সদর সাব-রেজিস্ট্রার ৪৮ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার প্রতিদিন চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে ভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থান করেন এবং বিমানে ঢাকায় যাতায়াত করেন। তিনি উক্ত মোটেলেই কমিশন গ্রহণ করে সকল দলিল সম্পাদন করতেন।

টিম উক্ত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অভিযানকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে। টিম জানতে পারে, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার অসুস্থতার দরখাস্ত দিয়ে অদ্যাবধি অফিসে আসেননি। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণে শ্রেণি পরিবর্তন করে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এবং ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যথাক্রমে যশোর জেলা কার্যালয় এবং কুমিল্লা জেলা কার্যালয় হতে পৃথক ২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বিএ-০৮/০৫-০৩ (শিক্ষা ডেস্ক)