বিশ্বে সাড়ে ১১ কোটি ছেলেশিশু বিবাহিত!

প্রকাশিতঃ জুন ৯, ২০১৯ আপডেটঃ ৮:৩৮ অপরাহ্ন

বিশ্বে বাল্যবিবাহের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এ তথ্য জানতে পেরেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ৷ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই সাড়ে ১১ কোটির প্রতি পাঁচ জনে একজন ১৫ বছর বয়সের আগেই আবদ্ধ হয়েছে বিবাহবন্ধনে৷

মোট ৮২টি দেশের জনসংখ্যা ও বিয়ের তথ্য সংগ্রহ করেছে ইউনিসেফ৷ তালিকার শীর্ষে থাকা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে এমন বিয়ের হার ২৮ শতাংশ৷ ১৯ শতাংশ নিয়ে এরপরই রয়েছে মধ্য অ্যামেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ও ১৩ শতাংশ নিয়ে আফ্রিকার আরেক দেশ মাদাগাস্কারের নাম৷

ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাল্যবিবাহের শিকার শিশুরা দ্রুত স্কুল থেকে ঝরে পড়ে, তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে৷ এছাড়া এই শিশুরা সঠিক বয়সে বিবাহিতদের তুলনায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় বলেও জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের সংস্থাটি৷

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘বিয়ে শৈশব কেড়ে নেয়৷ শিশু বরকে বয়স্কদের সব দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয়, যেসবের জন্য হয়তো তখনও তারা প্রস্তুত না৷ এতো আগে বিয়ে করায় অনেকে বাবাও হয়ে পড়ে খুব দ্রুত৷ ফলে পড়াশোনা ও ভালো চাকরির সন্ধান বাদ দিয়ে তাদেরকে পরিবারের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিতে হয়৷”

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে ইউনিসেফ জানিয়েছে, বিশ্বে এই মুহূর্তে ২২০ কোটি শিশুর মধ্যে সাড়ে ৭৬ কোটিই এখন বিবাহিত৷ তবে এখনও ছেলে শিশুদের তুলনায় মেয়ে শিশুরাই বাল্যবিবাহের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ অকাল গর্ভধারণের কারণে অনেকেই ভুগছে স্বাস্থ্য সংকটে৷

ইউনিসেফ বলছে, আফ্রিকার এই দেশটিতেই বাল্যবিবাহের হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি৷ সেখানে মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৫৷ তবে এটি পরিবর্তন করে ১৮ করার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেয়ার পেছনে দরিদ্রতা একটি অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করে৷ এছাড়া বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়লে সামাজিকভাবে যে হেনস্তার শিকার হতে হয়, তা এড়াতেও মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার৷

ইউনিসেফ জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি পাঁচজনের একজনের বিয়ে হয়েছে ১৮তম জন্মদিনের আগেই৷ এ হার ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রতি ৩০ জনে একজন৷

অক্টোবরে এক প্রতিবেদনে চ্যারিটি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছিল, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মেয়ে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অন্তত পাঁচ কোটি বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হতো৷

২০১৫ সালে যে বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে একমত হয়েছিল জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ একেবারে নির্মূল করার কথা বলা হয়েছে৷

ওয়ার্ল্ড পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের এক গবেষণা বলছে, প্রায় প্রতিটি দেশেই বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮৷ কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু দেশে এখনও ধর্মীয় আচার ও বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে এর আগেই বিয়ে করার আইনি বৈধতা রয়ে গেছে৷

এসএইচ-২৩/০৯/১৯ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক)