আমেরিকায় প্রথম বাংলাদেশি সিনেটর শেখ রহমান

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের সন্তান শেখ মুজাহেদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন। ২০১৮ সালের ২২ মে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়নে স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শেখ রহমান।

জর্জিয়ার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে তিনি প্রথম মুসলিম সিনেটর। সর্বশেষ তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হন। শৈশব এবং কৈশোর বাংলাদেশেই কাটিয়েছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি কর্মকর্তা বাবার সন্তান শেখ মুজাহেদুর রহমান বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নের পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। তিনি বিশ্বাস করেন পরিশ্রম ও অধ্যবসায় যখন এক বিন্দুতে মেলানো যায় তখন সাফল্য ধরা দেবেই। সময় পেলেই জন্মভূমির টানে দেশে আসেন তিনি।

জানা যায়, শেখ রহমান যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হন সেন্ট্রাল পিডমন্ট কমিউনিটি কলেজে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা থেকেই বাবার কাছ থেকে কোনো খরচ নিতেন না তিনি। একের পর এক রেস্টুরেন্টে কাজ খুঁজতে খুঁজতে সঙ্গের অনেকেই যখন হাল ছেড়ে দিচ্ছিল তিনি তখন আরো নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করলেন। ৫০টিরও বেশি রেস্টুরেন্ট থেকে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নর্থ ক্যারোলাইনা রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশারের কাজ পেয়েছিলেন। চালিয়েছেন ট্যাক্সি ক্যাবও।

জীবনযুদ্ধে হার না মানা এ অদম্য সৈনিকই এখন আমেরিকার জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমান হিসেবে গোটা বিশ্বে পরিচিত। ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়নে স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শেখ রহমানের জয় একটি বড় জবাব। নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেখ রহমান অভিবাসন নীতির পক্ষেই কথা বলেছিলেন। নিজের অভিবাসী পরিচয়টি ভুলে যাননি তিনি। নির্ভয়ে ও সোচ্চারে নিজের অভিবাসী পরিচয়টি সবার সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আলটিমেটলি সবাই কিন্তু ইমিগ্রেন্ট। আমি হয়তো ৪০ বছর আগে গেছি। অন্য বংশধররা হয়তো ৫০ বছর বা ১০০/২০০ বছর আগে গেছে।

এসএইচ-০৬/২৮/২১ (প্রবাস ডেস্ক)