পাবনায় বাজার ও স্কুল উচ্ছেদে সময় বৃদ্ধির দাবি

প্রকাশিতঃ জুন ৯, ২০১৯ আপডেটঃ ৬:১৩ অপরাহ্ন

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর মোড় বাজার ও স্বর্ণকলি বিদ্যাসদন স্কুল উচ্ছেদের সময় বৃদ্ধি এবং মানবিক দিক বিবেচনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রূপপুর মোড় বাজারের ক্ষুদ্র ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

রূপপুর মোড় বাজার ও স্বর্ণকলি বিদ্যাসদন স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যানারে পালিত এ কর্মসূচিতে পাকশী রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, রূপপুর বাজার সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন তপন, সাধারণ সম্পাদক রওশন আলম রনি পাটোয়ারী, পাকশী রেলশ্রমিক লীগের সভাপতি ইকবাল হায়দার, ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বাবু, মহসীন, সুলতান, বাবর আলী ও জুয়েল বাদশা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প উপহার দিয়ে দেশবাসীকে গর্বিত করেছেন। এই প্রকল্পের কাজ অতি দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়ে সমগ্র বাংলাদেশকে একদিন আলোকিত করবে এ আশায় আমরাও আশান্বিত। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমি, যা ইতোপূর্বে দোকান মালিকদের রেলভূমি ব্যবহার বাবদ উচ্ছেদের জন্য মৌখিক নোটিশ ও দোকানে লালক্রস চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

এই রেলভূমির মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরাতন একটি বাজার আছে। যেখানে দুইশ ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের দোকান রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিনই প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনেন।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৬৬ সালে যখন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়, তখন যে সকল বসত-বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছিল তাদের কিছু সংখ্যক পরিবারকে পাশের গ্রামে পুনর্বাসন করা হয়। সেই সব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যরা জীবন-জীবিকার তাগিদে এখানে দোকান পরিচালনা করে আসছেন।

এখানে একটি মসজিদ আছে, যেখানে শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। আছে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। স্কুলটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। তাই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে মানবিক দিক বিবেচনা করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে দুপুরে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ম্যানেজারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বিএ-১০/০৯-০৬ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)