বন্ধুকযুদ্ধে ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশিতঃ মে ২৫, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:১৮ পূর্বাহ্ন

ঢাকা, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধার,শেরপুর ও কুমিল্লায় র‌্যাব এবং পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এসব বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঢাকার তেজগাঁওয়ে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কামরুল নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বিজি প্রেস হাইস্কুল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার (এসআই) মো. মিজানুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামরুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত পৌনে ২টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও খবর : বিশেষ বিবেচনায় জামিন হবে খালেদা জিয়ার?

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, নিহত কামরুল ইসলাম ঢাকার তেজগাঁও রেল লাইন বস্তি এবং মহাখালী সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় ১৫টির বেশি মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র মামলা রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া দুই পক্ষের গুলি বিনিময়কালে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে একজন মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় চার পুলিশ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জের সুগার মিল এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম শামীম হোসেন। সে কালীগঞ্জের আড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বন্দুকযুদ্ধে ওই মাদক ব্যবসায়ীর নিহত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফেন্সি কামাল নিহত হয়েছে। এ সময় হালিম ও ইলিয়াস নামে দুই মাদক বিক্রেতাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর ষোলনল ইউনিয়নের মহিশমাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কামাল কুমিল্লা সদরের রাজমঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ কুমার দে জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাতে মহিশমাড়া এলাকায় অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলা চালায় মাদক বিক্রেতারা। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ঘটনাস্থলে ফেন্সি কামাল নিহত হন। এ সময় হালিম ও ইলিয়াস নামে দুই মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কেজি গাজাঁ ও একটি পাইপগান জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ সদরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর পুরোহিত পাড়া রেলওয়ে কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান ও কনস্টেবল কাওসার। তারা জেলা পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত ডিবি পুলিশ আশিকুর রহমান জানান, রাতে ওই এলাকায় মাদক বেচাকেনা করছে মাদক ব্যবসায়ী আলালসহ মাদক বিক্রেতারা। এমন গোপন খবর পেয়ে সেখানে অভিযানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে রাজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাজনের বিরুদ্ধে থানায় আট থেকে নয়টি মাদকদ্রব্য মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থলে থেকে ৪শ’ পিস ইয়াবা, একটি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয় বলেও জানান তিনি।

নেত্রকোনায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে নেত্রকোনায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা সদরের মদনপুর ইউনিয়নের মনাং বাজার বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের তিন সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পাইপগান ও বিপুল পরিমাণ হেরোইন, ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন খান বলেন, মনাং বাজার বাগান এলাকায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হয় তিন পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি পাইপগান ও ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, তিন হাজার পাঁচ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) জলিল, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাকির ও কনস্টেবল ওয়াহিদ আহত হয়েছেন বলে জানান ওসি। তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লাশ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সন্দেহভাজন ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে মোস্তাক আহামদ (৩৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রাত ১০টার দিকে দেবেঙ্গাপাড়া পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তাক আহামদ মুন্সিরডেইল গ্রামের বাসিন্দা।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দেবেঙ্গাপাড়া পাহাড়ি এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। পুলিশের সঙ্গে আধা ঘণ্টা গোলাগুলির একপর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী মোস্তাকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় এক হাজার ইয়াবা, চারটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, সাতটি গুলি ও ৩০টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত মোস্তাক ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় তিনটিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। মোস্তাকের মৃতদেহ উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

এর আগে ভোরে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ হাসান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শেরপুর জেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম আজাদ। তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জেলা সদরের সাতপাকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই)আবদুল ওয়াদুদ এবং অন্য দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহত আজাদের মৃতদেহের পাশ থেকে একটি পাইপগান এবং কয়েক বোতল ফেনসিডিল এবং কিছু ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।

আমিনুল ইসলাম আরো জানান, নিহত আজাদ ওরফে কালু ডাকাত শেরপুর-জামালপুর সড়কে সংঘটিত ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ডাকাতির বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। পুলিশ আজাদের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর সদর থানায় নিয়ে এসেছে।

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে ইউনুস আলী দালাল নামের একজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বড়ালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বড়ালি সীমান্তে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে ইউনুস নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শ্যুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও ৭০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে বলেও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম জুয়েল মিয়া, বয়স ৪৫ বছর। শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার পুলবন্দি ফলিয়া ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, জুয়েল মিয়া তার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আনুমানিক ৪/৫ টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান।

জুয়েল মিয়া সদর উপজেলার ব্রিজ রোড মিস্ত্রি পাড়া এলাকার মৃত নছিম উদ্দিনের ছেলে।

এসএইচ-০২/২৫/০৫ (অনলাইন ডেস্ক)