কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন না হলে সোমবার থেকে ধর্মঘট

প্রকাশিতঃ মে ১৩, ২০১৮ আপডেটঃ ৩:২৭ অপরাহ্ন

রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত না হলে সোমবার সকাল ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষার্থীরা। এই সময় সব পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া একটার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। ৩২ দিন পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আমাদের সঙ্গে সরকার ওয়াদা করেছে ৭ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন এখনো জারি করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন কোটা থাকবে না। তাঁর কথাই অলিখিত আইন। কিন্তু এরপরও আমরা শুনছি, এখন কমিটি করা হয়েছে। আমরা আর অপেক্ষা করতে চাই না।

ছাত্ররা কারও প্রতিপক্ষ নয় এমনটা জানিয়ে নুরুল হক বলেন, এই প্রজ্ঞাপন জারি হলে কোনো ছাত্র আর রাজপথে থাকবে না। আমরা আনন্দ মিছিল বের করব। তাই আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আমরা আমাদের ঘোষিত কর্মসূচি পালন করব।

আরও খবর: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন রোববার থেকে শুরু

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বের হয়ে শহীদ মিনার, কার্জন হল, হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে প্রবেশ করে। পরে রাজু ভাস্কর্যের সমনে এসে শেষ হয়। এ সময় বৃষ্টি এলে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে টিএসসিতে এসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আজকের মতো কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন ও আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটাব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা নিয়ে যখন এত কিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী কোটা নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ফের সোচ্চার হন শিক্ষার্থীরা।

এমও-০১/১৩-০৫ (শিক্ষা ডেস্ক, তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)