হার্ভার্ডে ‘বাংলাদেশ রাইজিং-২০১৮’ শীর্ষক সেমিনার

প্রকাশিতঃ মে ১৩, ২০১৮ আপডেটঃ ৬:২১ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘বাংলাদেশ রাইজিং-’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। এতে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিকল্প নেই বলে অভিমত পোষণ করা হয়। এছাড়া, বিদেশি বিনিয়োগকারিদের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে বৃহৎ এই একাডেমিক কনফারেন্স যৌথভাবে আয়োজন করে বস্টন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইন্যাবল ডেভেলাপমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভোলপমেন্ট। এ আয়োজনে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপ ও সামিট গ্রুপ।

জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ, নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিগণ, হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নীতি-নির্ধারক, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, থিংক ট্যাংক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আইটি স্পেশালিস্ট, ব্যবসায়ী, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ এই সেমিনারে অংশ নেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও ছিলেন সরব।

আরও খবর: কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

সেমিনারে আলোচনা, বিতর্ক, মত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় ইত্যাদির মাধ্যমে উঠে আসে বাংলাদেশে উন্নয়নকে অর্থবহ ও টেকসই করার বিভিন্ন কলা-কৌশলের কথা। এছাড়া উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন কোন ক্ষেত্রে আরও সংস্কার আনতে পারে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র/সংস্থাসমূহ কীভাবে বাংলাদেশকে কার্যকর সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়গুলোও উঠে আসে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়। শান্তিপূর্ণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাস্তবভিত্তিক ভূমিকার প্রতিও আলোচকগণ দৃষ্টিপাত করেন।

সেমিনারে ৬টি প্যানেলে দিনভর চলে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা। প্যানেলগুলো ছিল ১) প্রতিশ্রুত সামষ্টিক অর্থনীতি ও এর সংস্কার ২) সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ, ৩) অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ ও এর প্রতিশ্রুতি (৪) বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি (৫) ব্যবসায় নারী নেতৃত্ব ৬) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবাকে কীভাবে আরও গণমুখী করা যায় ।

সকাল ৯টায় ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইন্যাবল ডেভোলপমেন্ট ইনস্টিটিউ’র পরিচালক ইকবাল ইউসুফ এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুলের বেলফার সেন্টার এর সিনিয়র ফেলো ও এমআইটির সাবেক ডীন ড. ইকবাল কাদির উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং সেমিনারের সূচনা করেন।

এরপর হার্ভার্ডের টাফ্টস্ ফ্লেচার স্কুলের ইনস্টিটিউট ফর বিজনেজ ইন দ্যা গ্লোবাল কনটেক্স্ট এর ফেলো নিকোলাস সুল্লিভান সেমিনারের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময় বলে অভিহিত করেন ফ্লিচার।

উদ্বোধনী সেশনে মূল বক্তব্য দেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভোলপমেন্ট এর সিনিয়র রিসার্স ফেলো ফ্রাঙ্ক নেফ্কি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার কেবল ভিয়েতনাম ও চীনের সাথে তুলনা করা যায়। নেফকি বাংলাদেশের রফতানি, উৎপাদন সক্ষমতা বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরের বিকাশের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের গন্তব্য নিশ্চিতভাবে সফলতার দিকেই অগ্রসরমান। সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সর্বস্তরে জবাবদিহিতা চালুর চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বিষয়ে বলেন, শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই সফলতা নয়, সফলতা হল উন্নয়নের ধারাবাহিক গমনপথ। আমরা প্রকল্প ভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী নই আমরা জনগণভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী।

বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাম্প্রতিক এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটিতেই অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে।

সেমিনারে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তারেক আরিফুল ইসলাম, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বাংলাদেশ ইকোনমিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জামালউদ্দিন আহমেদ, আইএফসি’র প্রতিনিধি মিরা নারায়নাস্বামী, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী, মাইক্রসফট্ বাংলাদেশ লিমিটেড এর এমডি সোনিয়া বশির কবীর, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস্ এর আনিকা চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টা ইনসুরেন্স কোম্পানির ফারজানা চৌধুরী, অ্যালায়েন্স ফর আফোর্ডেবল ইন্টারনেট এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর সোনিয়া এন জর্জ, জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানীর সিইও দিপেস নন্দ, বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারী চার্লস ল্যাসি, সাউথ কোরিয়ার এসকে গ্যাস এর সিনিয়র ম্যানেজার ইয়ো জিন কিম, পিপল এন টেক ইন্সটিটিউট’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, নিউ হ্যামশায়ার অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের নির্বাচিত রিপ্রেজেনটেটিভ (রিপাবলিকান) আবুল খান, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তারেক আরিফুল ইসলাম, ইকোনমিক মিনিস্টার ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, কাউন্সিলর সঞ্চিতা হকসহ ৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসির প্রতিনিধিত্ব করেন ইকোনমিক মিনিস্টার শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী। হনুলুলু ও হাওয়াই এর অনারারী কনসাল জেনারেল এম. জান রুমীও এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

বিএ-১৫/১৩-০৫ (শিক্ষা ডেস্ক, তথ্যসূত্র: এনআরবি নিউজ)