যৌনকেশ রাখবেন না নাকি কামাবেন?

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৯, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:৪৩ অপরাহ্ন

“To shave, or not to shave, that is the question:
Whether ’tis nobler in the body to suffer
The slings and arrows of outgrown fortune,
Or to take Arms against a Sea of floccules.”

হ্যাঁ। আমাদের মনে প্রায়ই এই প্রশ্নটা এসে যায়— কামাবো কী কামাবো না। টাকা নয়, যৌনকেশ। রাস্তাঘাটে যাকে তাকে যৌনকেশ উৎপাটনের পরামর্শ দিতে আমরা পিছপা হই না বটে, কিন্তু নিজের বেলায় খাঁটি জিনিসটা বেছে নেওয়াই স্বাস্থ্যকর। চলুন তাহলে, যৌনকেশের ইতিহাস-ভূগোল-স্বাস্থ্য-অস্বাস্থ্য দেখে নেওয়া যাক।

যৌনকেশ কী? বয়ঃসন্ধির সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েদের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন ক্ষরণ হতে শুরু করে। তার প্রভাবে যৌনাঙ্গ সংলগ্ন এলাকা, বগল এবং অন্যান্য জায়গার পাতলা ভেলাস চুল ঝরে গিয়ে পুরু, ঘন ও কোঁকড়ানো যৌনকেশ জন্ম নেয়। বিজ্ঞান বলে, চুলের প্রকৃতি অনুযায়ী যৌনকেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল আমাদের ভুরুর।

ইতিহাস বলে, সভ্যতার বাল্যাবস্থা থেকেই এই সংক্রান্ত প্রশ্ন মানুষের মনে এসেছে। বাৎস্যায়ন তাঁর অমর গ্রন্থে লিখে গিয়েছেন প্রতি পাঁচদিন অন্তর গোপন কেশরাশি ক্ষুর দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে। দশদিন পর অবাঞ্ছিত রোমরাজি চিমটে দিয়ে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। আর আপনি ভাবছেন কিনা ব্রাজিলিয়ান ওয়াক্স আধুনিক সভ্যতার দান!

নবি হজরত তাঁর শিষ্যদের পাক পবিত্র থাকার জন্য যে পাঁচটি উপায় বা ফিতরা বলেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হল— যৌনকেশকর্তন। প্রাচীন গ্রিক ও মিশরীয় শিল্পে কখনও কখনও পুরুষের যৌনকেশ দেখালেও মেয়েদের প্রায় সব সময়ে সাফসুতরা দেখিয়েছে। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ফ্রান্সিসকো গোইয়া তাঁর ‘লা মাহা দেসন্যুদা’  পেইন্টিংয়ে নগ্ন নারীর যৌনকেশ দেখানোয় ইউরোপ জুড়ে হই হই পড়ে গিয়েছিল।

সুতরাং, কামানোর ট্র্যাডিশন কিন্তু বহু বহুদিন ধরে চলে আসছে।

আচ্ছা। চুল ছিঁড়তে শিবের গীত বাদ দিয়ে কাজের কথায় আসি। ছিঁড়বেন কী ছিঁড়বেন না। ব্যক্তিগত চয়েস। দু’দিকেরই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। অপরিষ্কার যৌনকেশ ঝাঁটউকুন বা পিউবিক লাইস এবং অন্যান্য চর্মরোগের জন্ম দেয়। বগল ও যৌনকেশ রাখলে আপনাকে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, নিয়মিত সাবান শ্যাম্পু ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করতে হবে।

আর কামাতে চাইলে কামান, কিন্তু মনে রাখবেন, এই রোমরাজি আপনার চামড়াকে ক্রমাগত ঘর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে রোমোৎপাটনের পরে চামড়ার যত্ন নেওয়া আবশ্যক। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অসুরক্ষিত যৌনসংসর্গ করেন, এমন মহিলাদের মধ্যে যাঁরা নিয়মিত যৌনকেশ কামান, তাদের হার্পিস, সিফিলিস এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সুতরাং, লাগামছাড়া জীবনযাপনে ইচ্ছুক নরনারীরা তাঁদের বিকিনি ট্রিমারে লাগাম পরাবেন কি না, ভেবে দেখুন।

জঙ্গল আপনার। মঙ্গলবার আপনি কী করবেন, তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে যাই করুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে করুন। মনে রাখবেন, যুদ্ধের ময়দানে হেয়ারি মানে কিন্তু বিপজ্জনক।

আরএম-১৩/১৯/০৭ (লাইফস্টাইল ডেস্ক, তথ্যসূত্র: এবেলা)