র‌্যাব ও পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

প্রকাশিতঃ মে ২৬, ২০১৮ আপডেটঃ ৪:১৬ পূর্বাহ্ন

জয়পুরহাট, কুমিল্লা, দিনাজপুর, চাঁদপুর, বরগুনা, পাবনা, ঠাকুরগাঁও ও ময়মনসিংহে র‌্যাব ও পুলিশের সাথে বন্ধুকযেুদ্ধে ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাতে এসব বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামেরএক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহত সেই মাদক বিক্রেতা উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পাঁচবিবি থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে ।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

তিনি আরও জানান, এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকিরা পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৫) নামে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

আরও খবর : পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে

শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও এক রাউন্ড বুলেটসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাবুল উপজেলার আশাবাড়ি ও আলমাস উত্তর তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির জানান, বাবুলের বিরুদ্ধে ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহজাহান (৩০) নামে শীর্ষ এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তেলওয়ারী গন্ডিমোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, রাতে ওই এলাকায় মাদক বিক্রেতারা মাদক ভাগাভাগি করছেন। খবর পেয়ে জেলা ডিবি ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক বিক্রেতারা ইট, পাটকেল ও গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান আরো জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম খান, আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মামুন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোজাহারুল আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, একটি রামদা’ ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরো একজন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ৩টা দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও সদর উপজেলার রামসাগর আব্দুস সালাম (৪৭)।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভোরে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য।

এদিকে সদর উপজেলার রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আব্দুস সালাম (৪৭) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামসাগর পশ্চিম দেয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল সেখানে গেলে আব্দুস সালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।  এ অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

চাঁদপুরের কচুয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবলু (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে তিনি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, রাতে একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবলুকে উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রাম থেকে আটক করা হয়।

থানায় নিয়ে আসার পথে একই উপজেলার ব্রিক ফিল্ডের কাছে বাবলুর সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ককটেল নিক্ষেপ করে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়।

এ সময় বাবলু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে তাকে দ্রুত কচুয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

পাবনা সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুর রহমান (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান সদর উপজেলার কবিরপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি পুলিশের।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেন্দ্রপুরের দুর্বার সবুজ গোষ্ঠীর পাশে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ককটেল ছোঁড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পিছু হটলে সেখান থেকে আব্দুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটার গান, তিনটি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, চারটি কার্তুজ এবং ২০০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়।

বরগুনায় ছগির খান নামে মাদক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে বরগুনা সদর উপজেলার  জাকিরতবক এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ভোররাতের দিকে গোলাগুলির শব্দে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এসময় তারা থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুজ জামান জানান, মাদক বিক্রেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ছগির খান বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শনিবার ভোর রাতে সদর উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে পাল্টাপাল্টি গুলি বর্ষনের ফলে মোবারক হোসেন কুট্টি ঘটনাস্থলে নিহত হয়। অভিযানে আহত তিন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল বিস্ফোরিত ৫টি ককটেল, বন্দুকের কার্টিজ ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নিহত মোবারক হোসেন কুট্টির বিরুদ্ধে প্রায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

এসএইচ-০৩/২৬/০৫ (অনলাইন ডেস্ক)