নামাজ আদায়ে যা অবশ্যই মেনে চলা জরুরি

প্রকাশিতঃ জুলাই ১১, ২০১৮ আপডেটঃ ৩:১০ অপরাহ্ন

ইসলামের প্রধান ইবাদত নামাজ। মানুষের ঈমান গ্রহণের পর দিন ও রাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। এ নামাজের প্রতি হৃদয়ে টান অনুভব করতে ঈমানদার মুসলমানের কিছু করণীয় রয়েছে। যা যথাযথ পালন করা আবশ্যক। আর তাহলো-

> নামাজের দিকে ধাবিত হওয়া
আজানের সঙ্গে সঙ্গেই মসজিদমুখি হওয়া। জামাআত শুরুর আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করা আল্লাহর নির্দেশও বটে। আল্লাহ বলেন-

`আর তোমরা যথাযথভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠা কর এবং জাকাত আদায় কর এবং নামাজিদের সঙ্গে নামাজ আদায় কর।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৩)

> নামাজে তাড়াহুড়া না করা
নামাজের জামাআত শুরু হওয়ার পর অনেকে দৌঁড়ে এসে জামাআতে অংম নেয়। আবার অন্যদেরকেও দৌঁড়ে আসতে বলেন। যা ঠিক নয়। নামাজের জামাআতে অংশ নিতে দৌড়ে আসাকে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

‘নামাজের ইকামত হলে তাতে দৌড়ে আসবে না, হেঁটে আসবে। স্থিরতা অবলম্বন করবে। যতটুকু নামাজ পাবে ততটুকুই আদায় করবে আর যা ফওত হয়ে (যে কয় রাকাআত ছুটে) যাবে তা পরে পূরণ করে নেবে। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ)

> মসজিদে প্রবেশ করেই নামাজ পড়া
মসজিদে প্রবেশ করেই অনেকে বসে পড়েন। তা ঠিক নয়। মসজিদে প্রবেশ করার পর বসার আগে দুই রাকাআত দুখুলিল মসজিদ নামাজ আদায় করা। অতঃপর বসা হচ্ছে সুন্নতি আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

`তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন বসার আগে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে নেয়। (বুখারি)

স্বাভাবিকভাবে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ পড়া এমনকি যদি দুই মিনিট বাকি থাকে তাতেও দুই রাকাআত নামাজ পড়ে তারপর বসাই নিয়ম।

> নামাজে তাকবিরে তাহরিমা, কেরাত ও দোয়া-দরূদ পড়া
অনেক নামাজি ব্যক্তি তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’, কেরাত এবং দোয়া-দরূদ এমনভাবে পড়ে; যাতে তাদের ঠোঁট, জিহ্বা এবং মুখ নড়ে না। তারা এগুলো মনে মনে পড়েন। কিন্তু সুরা, কেরাত, তাকবির, তাসবিহ, দরূদ ও দোয়া পড়ার সময় ঠোঁট-জিহ্বা-মুখ নড়াচড়া করার সঙ্গে সহিহ উচ্চারণ নিজ কান পর্যন্ত পৌছা। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু মামার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জোহর ও আসরের নামাজে কুরআন পড়তেন কি? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। আমরা প্রশ্ন করলাম আপনারা কিভাবে বুঝতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ি মোবারক নড়াচড়া দ্বারা। (ফাতহুল বারি)

> কাতারে ফাঁক না রাখা

নামাজ আদায়ের সময় কাতারে ফাঁক না রাখা। কাতারে ফাঁক থাকলে শয়তান তাতে প্রবেশ করে মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়; আর এতে মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নামাজরে ইকামত হয়ে গিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সামনে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, `তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করবে এবং মিশে মিশে দাঁড়াবে।` (বুখারি)

হাদিসের অন্য বর্ণনায় আরো বলা হয়েছে যে, `প্রত্যেকের নিজের কাঁধকে সঙ্গীর কাঁধের সঙ্গে, পা সঙ্গীর পায়ের সঙ্গে মিলিয়ে দাঁড়াবে।`

অন্য হাদিসে এসেছে- `ওই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি দেখছি শয়তান তোমাদের মাঝে ফাঁক করে নেয় এবং ভেড়ার বাচ্চার মতো কাতারের ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে পড়ে।` (আবু দাউদ)

সুতরাং হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নামাজে দাঁড়ানোর আগে ডান-বাম দেখে মিশে মিশে দাঁড়ানো।

> কাতার সোজা করা
নামাজে অনেকেই আগে-পিছে দাঁড়ায়। যা একেবারেই নিষিদ্ধ। এ জন্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ বারবার ঘোষণা দেন, কাতার সোজা করে দাঁড়াই। তারপরও অনেকে এ আহ্বানে সাড়া না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো আগ-পিছ করে দাঁড়ায়। এ ব্যাপার হাদিসে এসেছে-

`তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, কারণ কাতার সোজা করা সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়ার অংশ।` (বুখারি) অন্য বর্ণনায় এসেছে- ‘তোমরা কাতার সঠিক করবে কেননা কাতার সঠিক করা নামাজরে সৌন্দর্যের অংশ। (মুসলিম)

> রুকু-সেজদা
জামাআতে নামাজ পড়ার সময় কোনোভাবেই ইমামের আগে রুকু-সেজদায় যেমন যাওয়া যাবে না, তেমিন রুকু-সেজদা থেকে ইমামের আগে মাথাও ওঠানো যাবে না। এ ব্যাপারে হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে। তারপরও অনেক নামাজি জামাআত আদায়কালীন সময়ে ইমামের আগে রুকু-সেজদায় চলে যায় ও ওঠে যায়। হাদিসে এসেছে-

‘তোমাদের কেউ কি এ কথার ভয় করে না যে, ইমামের আগে যদি তার মাথা রুকু ও সেজদা থেকে তুলে নেয় তবে আল্লাহ তাআলা তার মাথাকে গাধার মাথা বা তার চেহারাকে গাধার চেহারায় পরিণত করে দেবেন?’ (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ)

> সুরা তথা কেরাত পড়া
নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সহিহ তেলাওয়াত। নামাজের সুরা বা কেরাত অশুদ্ধ হলে নামাজ হবে না। এ কারণে প্রত্যেক নামাজিকে কম করে সুরা ফাতেহাসহ ৪টি সুরা অথবা ছোট ছোট ১২টি আয়াত সহিহভাবে তেলাওয়াত শিখে নেয়া জরুরি। পাশাপাশি তাকবির, তাসবিহ, দরূদ, দোয়া ও সালাম সহিহ হওয়া আবশ্যক।

নামাজের উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পালন করা জরুরি।s

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজ আদায়ের বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরএম-০৯/১১/০৭ (ধর্ম ডেস্ক)