রাবিতে ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘ’র নতুন কমিটি ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮ আপডেটঃ ৯:৫৬ অপরাহ্ন

প্রেমে ব্যর্থ, বঞ্চিত, হতাশ ছাত্ররা ‘কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবে না’ শ্লোগানে গড়ে তুলেছে ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’। প্রেম মানেই স্বর্গীয় এক অনুভূতি। আর প্রেমের বিপরীতে ক্ষোভ, হতাশা, না পাওয়ার বেদনা। অথবা হঠাৎ আজীবন প্রেম না করার প্রতিজ্ঞা করে বসা। প্রেম ছাড়া জীবন গড়বার কসম গুলিয়ে খাওয়া। প্রেমে বঞ্চিতদের সঙ্গে নিয়ে একাকী জীবন উপভোগ করা। ভালোবাসা দিবস, বসন্ত উৎসব নামের দিনগুলোতে কম্বল মুড়ি দিয়ে রুমে সারাদিন ঘুমিয়ে থাকা।

এই না পাওয়ার হতাশা আর প্রেমে বঞ্চনার শিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একদল শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছে ‘সিঙ্গেল’দের সংগঠন।  মঙ্গলবার পহেলা ফাগুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উদযাপনরত যুগলদের দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই সংঘের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে।

প্রেমে বঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেনকে সভাপতি এবং অনিক খন্দকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি করা হয়। আগামী এক বছরের জন্য এ কমিটি অনুমোদ করেন সদ্য প্রাক্তন কমিটির সফল প্রেম-বঞ্চিত সভাপতি অনিক ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ দিপু।

আরও খবর: পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন পেলে গ্রেফতার

যুব সমাজকে প্রেমের আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে নানামূখী উদ্যোগ নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই রাবি প্রেম বঞ্চিত সংঘ। প্রতিবছরের মত এবারও ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রেমে বঞ্চিতদের এই সংঘটি প্রেম বিরোধী নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন প্রেম বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ করবে তারা। দিবসটির কুফল গুলো প্রচার করে একটি জনসচেতনতামূলক সেমিনার করতে পারে সংগঠনটি বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

রাবি প্রেম বঞ্চিত সংঘ’র আজীবন সদস্য প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, এই যে ১৪ ফেব্রুয়ারি কি একটা দিবস! এত মাতামাতি এই দিন নিয়ে। সবাই দেখি জোড়ায় জোড়ায় ঘুরছে। কেউ কেউ আবার সকালে এক জনের সঙ্গে বিকেলে আরেক জনের সঙ্গে ঘুরছে। একাধিক প্রেম করছে। এর জন্য আমরা প্রেমিকা পাচ্ছি না। প্রেমে প্রস্তাব দিলে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছি। এর আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। আমরা ‘প্রেম বঞ্চিত সংঘ’র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রেম বঞ্চিতের অধিকার আদায়ে তৎপর থাকবো।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সংঘটির নেতা কর্মীরা অনেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছেন। প্রেম করার পরও তারা সংঘে পদ পাচ্ছেন। অনেকে চুটিয়ে একাধিক প্রেম করছেন।

এমন অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে প্রেম বঞ্চিত সংঘ’র আজীবন সদস্য প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, আমাদের সংঘ শতভাগ প্রেমিক মুক্ত। এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত প্রেমিকরা আমাদের ঐক্য ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আমাদের সংগঠনকে কলঙ্কিত করার সব চেষ্টা আমরা প্রতিহত করবো। আমরা প্রেমমুক্ত আছি, থাকবো চিরকাল।

এমও-১৯/১৩-০২ (শিক্ষা ডেস্ক)