ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগ করা উচিত!

প্রকাশিতঃ জুলাই ১০, ২০১৮ আপডেটঃ ৫:২৫ অপরাহ্ন

কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ‘জঙ্গি’ বলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ করা উচিত। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে ছাত্ররা জঙ্গি। জঙ্গি হিসেবে এখন কাউকে মেরে ফেলা হলে এর দায় ভিসিকে নিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে যখন সবাই যৌক্তিক আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাঁদের জঙ্গি সংগঠনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কোটা আন্দোলনে জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে এ কথা বলে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করেছেন।

লিখিত এক বক্তব্যে জয়নুল আবেদিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের ঢালাওভাবে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পথ বন্ধ করার আদেশ উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা। এটা তিনি করতেই পারেন না।

আরও খবর: তরিকুলের মেরুদণ্ডের হাড়ও ভেঙে গেছে (ভিডিও)

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কারের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিল ঘোষণার পর পুলিশের সামনে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে ছাত্রলীগ, প্রকাশ্যে নারীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের কেউ কোনো কথা বলছেন না। আমরা এর নিন্দা জানাই।

আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের গ্রেপ্তার না করার দাবি জানিয়ে জয়নুল আবেদিন বলেন, আমরা দেখছি, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রছাত্রীদের ৫ দিন, ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা সব ছাত্রকে বিনা পয়সায় আইনি সহায়তা দেবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এ সময় আন্দোলনকারীদের ওপর যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, গোলাম রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার নিজ কার্যালয়ে কোটা আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) আখতারুজ্জামান বলেন, তালেবান জঙ্গিরা বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে যে রকম উসকানিমূলক ভিডিও বার্তা পাঠায়, তার অবিকল উগ্র চরমপন্থী মতাদর্শী প্রচারণামূলক ভিডিও আমি নিজে দেখেছি। তালেবান নেতা মোল্লা ওমর ও ওসামা বিন লাদেনের মতো ভিডিও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।

জঙ্গিরা যেভাবে শেষ অস্ত্র হিসেবে নারীদের ব্যবহার করে, সেভাবে কোটা আন্দোলনেও ছাত্রীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এসব মেনে নেবে না। ফৌজদারি অপরাধ করলে আইনের শাসন কার্যকর হতে হবে।

এমও-০৭/১০-০৭ (শিক্ষা ডেস্ক, তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)