ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত, প্রতিবাদে ৫২ শিক্ষকের পদত্যাগ

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৮, ২০১৮ আপডেটঃ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ জোর করে পরীক্ষা দেয়ানোর সময় শিক্ষকরা বাধা দিলে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে তাৎক্ষণিক বিচার না পাওয়ায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ৫২ জন শিক্ষক পদত্যাগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জমা দিয়েছেন।

এরমধ্যে দুইজন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, চারজন ডিন, চারজন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সকল হাউজ টিউটর, সকল সহকারী প্রক্টরসহ ৫২ জন।

জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় বিভাগের পক্ষ থেকে অনুমোদন না দেয়ার পরেও জোর করে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। পরীক্ষায় ফলাফল এক দিন আগে ঘোষণা করায় এক অধ্যাদেশবিরোধী উল্লেখ করে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার তার সহযোগীদের নিয়ে ঈশিতার পক্ষ হয়ে তাকে জোরপূর্বক পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দেয়।

বিভাগের শিক্ষকরা এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে সজীব তালুকদার বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগের শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেন ও মহিউদ্দিন তাসনিনের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও মারার উপক্রম হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঈশিতাকে পাহাড়া দিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করায়।

এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিকেল চারটার দিকে জরুরি সভা ডাকে শিক্ষক সমিতি। সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহ-সভাপতি ইমরান মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও সহ-সভাপতি আদ্রিতা পান্নার বিচারের দাবি জানানো হয়। মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ও ১৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ভাইস চ্যান্সেলর বরাবর দুইটি আবেদনে এই চারজনের বিচারের দাবি জানানো হয়।

পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষে ছাত্রলীগ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করা হয়। সভার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বের হয়ে এসে প্রতিটি হল থেকে ছাত্রছাত্রী বের করে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করে। রাত সাড়ে ১০টার দিক থেকে তিনটা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন, আমরা শিক্ষকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সঠিক বিচার না পাওয়ায় সোমবার দুপুরের দিকে শিক্ষকরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিকেল পাঁচটায় রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. শাহিন উদ্দিন আমাকে জানিয়েছেন, পদার্থবিদ্যা বিভাগের একজন ছাত্রী পরীক্ষায় ফেল করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক ড. আনোয়ার হোসেন ও মহিউদ্দিন তাসনিনের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করেন।

একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও তাদের লাঞ্ছিত করেন। শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহ-সভাপতি ইমরান মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও সহ-সভাপতি আদ্রিতা পান্নার বিচারের দাবি জানিয়ে ৫২ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের নিকট তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। যেকোনো অজুহাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এই ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ড. মো. আলাউদ্দিন আমাকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। এখনও সভা চলছে। সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএ-১৮/০৮-১০ (শিক্ষা ডেস্ক, তথ্যসূত্র: আরটিভি)