ছাত্রদের দিয়ে খেতের ধান কাটালো শিক্ষক!

প্রকাশিতঃ মে ১৬, ২০১৮ আপডেটঃ ১০:০৮ অপরাহ্ন

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের দিয়ে নিজের খেতের ধান কাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে দশম শ্রেণির ছাত্রদের ধান কাটতে বাধ্য করেছেন ওই শিক্ষক। ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, শ্রমিক না পাওয়ায় ছাত্রদের দিয়ে ধান কাটিয়েছেন তিনি। এর জন্য ছাত্রদের মজুরি দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ওই শিক্ষককে তলব করেছেন। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহসিন আলী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ডেকে নেন।

এ সময় তিনি বেছে ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে তাঁর জমিতে ধান কাটার প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থীরা আপত্তি না করলে তাদের ধান কাটার জন্য উপজেলার জিয়াপাড়ায় তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে তাঁদের জন্য ধান কাটার কাস্তে ও তা বহনের জন্য বাঁক (বাঁশের লাঠি) দিয়ে ধান খেতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্ররা এ সময় ধান কেটে তা বহন করে শিক্ষকের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

আরও খবর: পার্ক থেকে আপত্তিকর অবস্থায় ৭২ প্রেমিক যুগল আটক (ভিডিও)

বিষয়টি জানার পর স্থানীয় লোকজন মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন ইউএনও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাতজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লেখাপড়ার জন্য সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েছেন। পাঠদানের পরিবর্তে তাদের দিয়ে ধান কাটার কাজ করে নিচ্ছেন। এর বিচার হওয়া উচিত বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক বাধ্য করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী মজুরি খেটে টাকা জোগাড় করছে। এ জন্য তারা ধান কাটছে বলে জানিয়েছে। বিদ্যালয় চলাকালীন ছাত্রদের পাঠদান না করিয়ে ধান কাটতে বাধ্য করা ঠিক হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত শিক্ষক মহসিন আলী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, এলাকায় শ্রমিক-সংকটের কারণে দশম শ্রেণির ছয়জন ছাত্রকে দিয়ে নিজের খেতের প্রায় এক বিঘা বোরো খেতের ধান কেটে নিয়েছেন। অভিযোগ আসার পর শিক্ষার্থীদের খেত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধান কাটা ওই সব ছাত্রের মজুরি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাগমারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। পাঠদানের পরিবর্তে ছাত্রদের দিয়ে শিক্ষকের খেতের কাজ করিয়ে নেওয়া ঠিক না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। এ জন্য প্রধান শিক্ষক এবং ওই শিক্ষককে তাঁর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমও-২০/১৬-০৫ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)