স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন, তরুণীকে মারধর

প্রকাশিতঃ আগস্ট ১২, ২০১৮ আপডেটঃ ১০:৪৩ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ৪ দিন ধরে অনশন করার ঘটনায় এক আদিবাসী তরুণীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষীরসিন গ্রামের অমৃত উড়াঁও’র বাড়িতে। ওই তরুণীর নাম আতশী রানী উড়াঁও (১৮)।

জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলার খৈচালা গ্রামের বাসুদের উড়াঁও’র মেয়ে আতশী রানী উড়াঁও গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ৫দিন আগে থেকে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ক্ষীরসিন গ্রামের অমৃত উড়াও’র ছেলে রাজকুমার উড়াও’র বাড়িতে অনশন শুরু করেন। স্থানীয়রা জানান, আতশীর সাথে তাড়াশের ক্ষীরসিন গ্রামের অমৃত উড়াঁও’র ছেলে রাজকুমার উড়াঁও (২৫) ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার সময়ে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। ২৯ জুলাই তারা নোটারি পাবলিকে এভিডেফিট মূল্যে বিয়ে করেন।

আতশী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর রাজকুমার তার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তার পরিবারে ১ লাখ যৌতুক দেবার মত সামর্থ্য না থাকায় রাজকুমার তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে আসছে। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন।

এদিকে দেশীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস আদিবাসী তরুণীর অনশনের খবর পেয়ে ছেলে পক্ষকে অনশনরত মেয়েকেসহ ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে সেখানে স্থানীয়দের নিয়ে একটি সালিশী বৈঠক করা হয়। সেখানে ছেলেসহ তার বাবাকে ৩দিন পর ইউনিয়ন পরিষদে আসার নির্দেশ দেয়া হয় এবং অনশনরত তরুণী আতশী রানীকে তার হেফাজতে দেওয়া হয়।

মেয়ের মামা স্বপন কুমার উড়াঁও অভিযোগ করে বলেন, ছেলের অভিভাবকরা সন্ধ্যায় আতশীকে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একটি অটোভ্যানে তুলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি আতশীকে রাজকুমারের বাড়ীতে ফিরে আসলে হত্যারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

পরে আতশীর স্বজনেরা আতশীকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। মারধরের বিষয়টি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তীতে জানতে পেরেছি ওই তরুণীকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। যা দুঃখজনক।

তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শিমুল তালুকদার জানান, ব্যাপক মারধরের কারণে আতশীর অবস্থা প্রথমদিকে বেশ খারাপ ছিল। ৩ দিনের চিকিৎসার পরে এখন তিনি আশংকা মুক্ত। অপরদিকে অভিযুক্ত রাজকুমার ও তার বাবা অমৃত উঁড়াও’র সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং তাদেরকে বাড়িতে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ফজলে আশিক জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এমও-২২/১২-০৮ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক)