গৃহকর্মীকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মে ২৬, ২০১৮ আপডেটঃ ১০:০১ অপরাহ্ন

গৃহকর্তার ও গৃহকর্ত্রীর হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছে কুড়িগ্রাম শহরের টাপু নামা ভেলাকোপার মেয়ে কুলসুম (১০)। ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। তার দুই হাতে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত শিশুটিকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ৬নং ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হলেও সাংবাদিকদের আগমনের খবর পেয়ে শনিবার শিশুটিকে সরিয়ে নেয় একটি প্রভাবশালী মহল। আহত কুলসুম টাপু নামা ভেলাকোপা গ্রামের দিনমজুর কবির হোসেনের মেয়ে।

কুলসুমের বাবা কবির আলী বলেন, সংসারে অভাবের কারণে প্রতিবেশী ফরিদ আলীর কথায় ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে মেয়েকে পাঠাই। মাধ্যম হিসেবে কুড়িগ্রাম শহরের কৃঞ্চপুর কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কুড়িগ্রাম উত্তরা ব্যাংকের সহকারী অফিসার নুরন্নবীর বাসায় রেখে আসা হয়।

আরও খবর: মাদক অপরাধ কমিয়ে আনার জন্য পুরস্কার পাওয়া পুলিশ কর্তাই ‘মাদক ব্যবসায়ী’!

গত ৯ মে কুলসুমকে ঢাকার মতিঝিল এলাকায় উত্তরা ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার নুর আলমের মালিবাগের ভাড়া বাসায় পৌঁছে দেয় ফরিদ আলী। প্রথম কয়েকদিন সেখানে ভালো কাটলেও এরপর থেকেই ব্যাংক কর্তা-কর্ত্রীর আসল চরিত্র বেরিয়ে আসে। পান থেকে চুন খসলেই মেয়েটির ওপর নেমে আসে অত্যাচার।

ব্যাংক কর্মকর্তা নুর আলমের স্ত্রী সুমিও একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তার অত্যাচার ছিল নিষ্ঠুর। প্রচণ্ড মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিতো। এতে গুরুতর আহত হলে ফরিদ আলীকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়।

পুলিশি ঝামেলা এড়াতে তার মাধ্যমেই অসুস্থ মেয়েটিকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার বাসে কুড়িগ্রামে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রাম হাসপাতালে কুলসুমকে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্মকর্তা নুর আলম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি অস্বাভাবিক ধরনের। সে নিজে নিজে এসব কাজ করেছে। আমাদের সুনাম নষ্ট করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এমও-১৫/২৬-০৫ (উত্তরাঞ্চল ডেস্ক, তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ)